বাংলার বাতাসে আজ বারুদের গন্ধ। বাঁকুড়ার ওন্দা থেকে যে আগুনের ফুলকি আমরা দেখলাম, তা কেবল একটি দোকান বা খড়ের চাল ভস্মীভূত করেনি, তা পুড়িয়ে দিয়েছে এই রাজ্যের তথাকথিত ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকারের মুখোশ। আজ যখন একজন সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন, তখন প্রশাসনের ভূমিকা দেখে আমাদের মতো সাধারণ মা-বোনেদের মনে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই সুরক্ষিত? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে আজ সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কারণ, শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, পুলিশ আজ আর নিরপেক্ষ রক্ষক নয়, তাদের এই সরকার কার্যত ‘জামাত বা গুন্ডাতে’ পরিণত করেছে।
অরাজকতার অন্ধকারে আশার আলো
একজন রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থক যখন আক্রান্ত হন, তখন তার পাশে দাঁড়ানোই দলের প্রকৃত ধর্ম। ওন্দার ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বর্তমান শাসক দল যখন অজুহাত খুঁজতে ব্যস্ত, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তখন পরিবারের মতো আর্তের পাশে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা আজ চরম সীমায়। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর ফরেনসিক টিম এসেছে, তাও সম্ভবত সংবাদমাধ্যম এবং ভিআইপিদের উপস্থিতির চাপে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্গাপুর বা বাঁকুড়া শহর থেকে আসতে কি এত সময় লাগে?
কিন্তু হতাশার এই অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো জ্বেলেছে বিজেপি। ক্ষতিগ্রস্ত সেই কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে দল জানিয়ে দিয়েছে, “তোমাকে নিরাপত্তা আমরা দেব”। কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, দোকান মেরামতির সম্পূর্ণ অর্থ, সাত দিনের রেশন, এবং জেঠুর বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা—সবটাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামীকালই সেখানে সিসিটিভি বসানো হবে এবং তিনি কথা দিয়েছেন, পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি লড়াই লড়বেন। এই যে আপন করে নেওয়া, এই যে দায়িত্ববোধ—এটাই তো আগামীর বাংলার মডেল হওয়া উচিত।
তৃণমূলের অজুহাত বনাম বাস্তবের মাটি
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী এই ঘটনাকে লঘু করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। তার মতে, শীতের দিনে খড়ের চালে দুর্ঘটনাবশত আগুন লাগতেই পারে। তিনি উল্টে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন, সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে এনে দাবি করেছেন বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ সাজাচ্ছে। তৃণমূলের যুক্তি হলো, কেন্দ্র আবাসের টাকা আটকে রেখেছে বলেই ওই মানুষটির মাথায় পাকা ছাদ নেই, তাই আগুন লেগেছে।
কিন্তু একজন নারী হিসেবে আমি প্রশ্ন করি, পাকা ছাদ না থাকলেই কি কারো ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার লাইসেন্স পাওয়া যায়? “দুর্ঘটনা” বা “কেন্দ্র টাকা দেয়নি”—এই বুলি আউড়ে কি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা ঢাকা যায়? শাসক দল যখন ভুক্তভোগীর ক্ষতে প্রলেপ না দিয়ে রাজনীতির কাদা ছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত থাকে, তখন বুঝতে হবে পরিবর্তন আসন্ন।
২০২৬: পরিবর্তনের ডাক
শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পুলিশ যদি সঠিক তদন্ত না করে, তবে আগামী ২৭ তারিখ থেকে তিনি আইনি পথে হাঁটবেন এবং পথে নেমে প্রতিবাদ করবেন। এই লড়াই কেবল ওন্দার এক কর্মীর লড়াই নয়, এ লড়াই আগামীর বাংলার। যারা আজ পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে চায়, তাদের সময় শেষ হয়ে আসছে।
আগামী ২০২৬-এর নির্বাচনে আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আমাদের এমন এক সরকার দরকার যারা অজুহাত দেবে না, বরং দায়িত্ব নেবে। যারা পুলিশকে ‘দলদাস’ না বানিয়ে জনসেবকে পরিণত করবে। ওন্দার ওই পোড়া ছাই থেকে আজ ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়াতে হবে বিজেপিকে। কারণ বাংলার মানুষ বুঝে গেছে, বিপদে আপদে পুলিশ নয়, ভারতীয় জনতা পার্টিই তাদের প্রকৃত অভিভাবক। আসুন, এই বিশ্বাসকে সম্বল করে আমরা ২০২৬-এ এক নতুন ভোরের সূচনা করি, যেখানে অরাজকতার অবসান হয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

