কোলাপুরি চপ্পল দেখেই ‘নকল’ করা হয়েছিল জুতোর নকশা! অবশেষে ঋণ স্বীকার করল প্রাডা

কোলাপুরি চপ্পল দেখেই ‘নকল’ করা হয়েছিল জুতোর নকশা! অবশেষে ঋণ স্বীকার করল প্রাডা

বিতর্কের চাপে শেষমেশ ঢোঁক গিলল প্রাডা। তারা যে ভারতের কোলাপুরি চপ্পলের নকশা হুবহু নকল করেছিল, তা অবশেষে স্বীকার করল ইটালির আন্তর্জাতিক বিলাসী ব্র্যান্ড।

ঠিক এক সপ্তাহ আগেই বিতর্কের সূত্রপাত। প্রাডার ফ্যাশন শোয়ে বিদেশি মডেলদের পায়ে কোলাপুরি চপ্পল দেখে চমকে গিয়েছিলেন ভারতীয়েরা। ফ্যাশন দুনিয়ার অন্যতম ‘নাক উঁচু’ ব্র্যান্ড প্রাডা। তাদের পোশাকের সঙ্গে মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের চামড়ার চপ্পল কী করছে, সে প্রশ্ন তো উঠেছিলই, সেই সঙ্গে এ খোঁজও করা হয়েছিল যে, প্রাডা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী চপ্পলের নকশার ঋণ স্বীকার করেছে কি?

দেখা গিয়েছিল, ইটালির ব্র্যান্ড তার প্রয়োজন মনে করেনি। অর্থাৎ ভারতের ঐতিহ্যবাহী চটির নকশাকে বেমালুম নিজেদের বলে চালিয়েছিল। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন ভারতীয় ফ্যাশন জগতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিত্বেরা। বিতর্ক যে হচ্ছে, তাঁর খবর যায় প্রাডার কাছেও। অবশেষে এক সপ্তাহ পরে বিবিসিকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে প্রাডা জানাল, ওই চপ্পল ভারতের কোলাপুরি চপ্পল থেকেই অনুপ্রাণিত।

প্রাদা-র সৈকত পোশাকের সঙ্গে কোলাপুরি চপ্পলের মিলমিশ কাঁটার মতো বিঁধেছে ভারতীয়দের।

প্রাডার এক মুখপাত্র বিবিসির প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‘প্রাডা সব সময়েই ঐতিহ্য এবং শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ওই চপ্পলের ব্যাপারে মহারাষ্ট্রের চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এগ্রিকালচার-এর সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমরা।’’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই মহারাষ্ট্রের চেম্বার অফ কমার্সের প্রধান প্রাডাকে লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছিলেন যে, মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের কারিগরেরা যে শিল্প কয়েক শতক ধরে রপ্ত করেছেন এবং তার নিজস্ব এক পরিচিতি তৈরি তাকে স্বীকৃতি না দিয়েই ওই শিল্পের বাণিজ্যিকীকরণ করেছে প্রাডা। এর জবাবে প্রাডার তরফে পাল্টা জানানো হয়, সংস্থাটি ভারতীয় শিল্পীদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে প্রস্তুত। তাঁদের নকশাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই কথোপকথনের পরেই বিবিসির কাছে বিষয়টি স্বীকার করল ইটালির ব্র্যান্ড।

মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের বাজার থেকে সোজা মিলানের মার্জার সরণিতে।

ইটালির ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘প্রাডা’ সম্প্রতি তাদের ২০২৬ সালের স্প্রিং-সামার কালেকশনের প্রদর্শন করেছিল মিলানে। সেখানে প্রাডা-র মডেলদের দেখা যায় সৈকত শহরে বেড়ানোর পোশাকে। কেউ পরেছিলেন ঊরু অবধি খাটো ঝুলের জাম্পস্যুট। কেউ ঝলঝলে শর্টস। কেউ আবার পরেছিলেন রঙিন স্ল্যাকস, টিশার্ট আর অফিসে পরার জ্যাকেট। আর ওই সমস্ত পোশাকের সঙ্গেই পায়ে কোলাপুরি চপ্পল পরেছেন মডেলরা। যে চপ্পল দ্বাদশ শতকে ভারতে তৈরি হয়েছিল এক রাজার জন্য।

চালুক্য রাজার বিজ্জলাদেবের জন্য তাঁর প্রধানমন্ত্রী বাসবান্ন ওই চপ্পল বানাতে বলেন। পরে তা বহু দিন কেবল সমাজের উচ্চবর্গীয়দের পরিধান হিসাবেই থেকেছে। পরিচিতি পেয়েছে ‘অভিজাতদের রূচিসম্মত পদাবরণ’ হিসাবে। প্রাদা ওই জুতোর নকশাকে নিজেদের বলে চালানোয় এবং ভারতের ঐতিহ্যকে কোনও রকমের কৃতিত্ব না দেওয়ায় ক্ষোভ জমে ভারতীয় ফ্যাশন দুনিয়ায়।

ভারতে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ওই জুতোর দাম প্রাডা লাখ টাকা ধার্য করায় কটাক্ষও করা হয় ব্র্যান্ডটিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.