বাংলার মেয়েদের ক্রিকেটের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং তাঁদের এই খেলায় আরও বেশি করে উৎসাহিত করতে এক অভিনব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল এনসিসি (NCC) এবং রাজস্থান ক্লাব। বুধবার কলকাতার বিবেকানন্দ পার্কে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হলো এই দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাডিং মহিলা টি-২০ ক্রিকেট’ (Budding Women’s T20 Cricket Tournament) প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ। চন্দ্রলেখা ডালমিয়ার নামাঙ্কিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
বিবেকানন্দ পার্কের এই মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ‘মা সারদা’ এবং ‘রানি ঝাঁসি’—এই দুই দল। টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মা সারদা দল। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা স্কোরবোর্ডে ১৮১ রানের এক বিশাল পাহাড় খাড়া করে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মা সারদা দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রানি ঝাঁসি দলের ব্যাটিং লাইন-আপ। মাত্র ৫৫ রানেই অল-আউট হয়ে যায় তারা। ফলে ১২৬ রানের এক বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ট্রফি নিজেদের নামে করে মা সারদা দল।
নক্ষত্রখচিত ফাইনালের মঞ্চ ও পুরস্কার বিতরণী
বাংলার মহিলা ক্রিকেটের প্রসারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক চাঁদের হাট। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ম্যাচ উপভোগ করেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন কিংবদন্তি অধিনায়ক তথা পেসার ঝুলন গোস্বামী।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-এর প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া, এনসিসি-র বর্তমান সভাপতি পবন ভালোটিয়া, সিএবি-র প্রাক্তন সহ-সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস, ক্রিকেট ক্লাব অব ঢাকুরিয়ার কর্ণধার শান্তনু মিত্রসহ সিএবি-র অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকেরা। শুধু বর্তমান কর্মকর্তারাই নন, বাংলার ক্রিকেটকে এক সময় সমৃদ্ধ করা একাধিক প্রাক্তন মহিলা তারকা ক্রিকেটারও এদিন মাঠে এসে তরুণীদের উৎসাহিত করেন।
এক নজরে ফাইনাল ম্যাচের খতিয়ান
| ম্যাচের বিবরণ | ফলাফল ও পরিসংখ্যান |
| টুর্নামেন্টের নাম | চন্দ্রলেখা ডালমিয়া নামাঙ্কিত বাডিং মহিলা টি-২০ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা |
| ভেন্যু | বিবেকানন্দ পার্ক, কলকাতা |
| প্রথম ইনিংস | মা সারদা দল — ১৮১ রান |
| দ্বিতীয় ইনিংস | রানি ঝাঁসি দল — ৫৫ রান (অল-আউট) |
| ফলাফল | মা সারদা দল ১২৬ রানে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন |
ম্যাচ শেষে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলের ক্রিকেটারদের হাতে ট্রফি ও আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও বাংলার মহিলা ক্রিকেটের ভিত শক্ত করতে এবং তৃণমূল স্তর থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে এই ধরনের টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে।

