২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি কি ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নৈশভোজে নিজের তৃতীয় মেয়াদের সম্ভাবনার কথা উস্কে দিলেও, মুহূর্তের মধ্যেই এটিকে ‘রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জল্পনার সূত্রপাত ও ট্রাম্পের ব্যাখ্যা
হোয়াইট হাউসের উক্ত নৈশভোজে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প তাঁর শাসনকালের দুই মেয়াদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, তাঁর প্রথম মেয়াদের চেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদটি সব দিক থেকেই বেশি সফল। এর পরেই ট্রাম্প বলেন, “তৃতীয় বার আরও ভাল হবে।”
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে শুরু হয় জল্পনা। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ সুগম করতে মার্কিন সংবিধানে পরিবর্তন আনতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন? তবে জল্পনা তীব্র রূপ নেওয়ার আগেই মিনিটখানেকের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে তিনি সিরিয়াসলি কিছু বলেননি। নৈশভোজের মঞ্চেই জল্পনার ইতি টেনে তিনি হেসে বলেন, “আমি তো শুধু মজা করছিলাম।”
মার্কিন সংবিধান ও প্রেসিডেন্টের মেয়াদ
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরপর বা ভিন্ন মেয়াদে কোনও ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকতে পারেন না।
- ২২তম সংশোধনী: ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট টানা চারটি মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার পর, ১৯৫১ সালে মার্কিন সংবিধানে ২২তম সংশোধনী আনা হয়। এই আইনের মাধ্যমে এক জন ব্যক্তির প্রেসিডেন্ট হওয়ার সীমা সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
- ট্রাম্পের রাজনৈতিক সফর: রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে প্রথম বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন।
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচনে লড়ার কোনও আইনি সুযোগ নেই। তাই তাঁর এই মন্তব্যকে নিছকই রসিকতা হিসেবে গণ্য করা হলেও, মার্কিন রাজনৈতিক অলিন্দে তা নিয়ে যথেষ্ট চর্চা হয়েছে।

