নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্না। দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী—তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই সীমার বিরুদ্ধে প্রথম সরব হয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুই নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগ ও ‘ইসিআইনেট’ বিতর্ক
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনার অভিযোগ করেছেন যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া বর্তমানে বিকেন্দ্রীভূত নয়, বরং তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছেন আইটি ডিজি সীমা খন্না। অতীতে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের হাতে থাকলেও এবং ‘ইআরওনেট’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রিত হলেও, বর্তমানে তা ‘ইসিআইনেট’-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
গত অগস্টে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু আপত্তি জানিয়ে বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ‘ইআরওনেট’ পোর্টালে প্রবেশের অধিকারে নিয়ন্ত্রণ টানা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সীমা খন্না এই পোর্টাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই কেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থার জেরে গোয়ায় বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। গত ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, পুরনো তালিকার সঙ্গে অমিল থাকা ভোটারদের নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। গোয়ার ইআরও-রা ৯৭ জনকে যোগ্য বলে রায় দিলেও, সফটওয়্যারে তা বাস্তবায়নের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলস্বরূপ, বারবার চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও কোনো সাড়া মেলেনি এবং ওই ৯৭ জন যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও অভিষেকের পুরনো প্রসঙ্গ
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, দুই কমিশনারের এই অভিযোগে তাদের পূর্বের কথাই সত্য প্রমাণিত হলো। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বরের একটি সংবাদ সম্মেলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল জানায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে দিন অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, দুই মাস ধরে চলা যাচাই প্রক্রিয়া যেখানে আধিকারিকদের করতে হয়, সেখানে কোন সফটওয়эр ব্যবহার করে এক ঘণ্টায় পরিসংখ্যান তৈরি করা হলো এবং কার নির্দেশে সীমা খন্না এই কাজ করছেন—তাঁদের কাছে তার স্ক্রিনশটও রয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দাবি, কমিশন ও সফটওয়্যারের ব্যাক-এন্ড ব্যবহার করে ভোটার তালিকা বিকৃত করা হয়েছে। বুধবার এক ফেসবুক লাইভে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সীমা খন্না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ নাম বাদ দিয়েছেন এবং এই ঘটনার জاردে জ্ঞানেশ কুমার ও সীমা খন্না উভয়েরই গ্রেফতারি দাবি করেন তিনি।

