রাস্তায় নেমে অতিসক্রিয়তা পরিহার করে দফতরে বসে কাজে মন দেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রীকে ‘পরামর্শ’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর মিলেছে।
কোন দুই মন্ত্রীর প্রতি নির্দেশ?
সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওই দুই মন্ত্রী হলেন অগ্নিমিত্রা পাল এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাস্তায় নেমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা দেখানোর পরিবর্তে তাঁদের দফতরে বসে সরকারি কাজে মনোনিবেশ করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- অগ্নিমিত্রা পালের কর্মকাণ্ড: সম্প্রতি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে সব্জিবিক্রেতা বা পথচলতি মানুষের সঙ্গে বচসা, মাইক হাতে পথ নিরাপত্তার হুঁশিয়ারি, বাজারে সাইকেল রাখা নিয়ে বিক্রেতাদের ধমক দেওয়া এবং ফুটপাথবাসীদের রাখি ও উপহার দেওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
- শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত हालেই রাস্তায় নেমে জনসংযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে নেমে সক্রিয়তা দেখিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, বুধবারই বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী শারদ্বত তাঁর ‘বিধায়ক দরবারে’ পড়শি রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার সঙ্গে জনসমক্ষে তর্কে জড়ান। এর পরেই নবান্নের বৈঠকে তাঁকে দফতরে ‘ফোকাসড’ হওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার বিষয়ে শারদ্বত ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অভিভাবক, তাই তিনি এই পরামর্শ দিতেই পারেন।
নিয়োগ এবং বাজেট নিয়ে কড়া নির্দেশ
এ দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে দফতর ধরে ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কাটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি দফতরে গড়ে প্রায় দশ হাজার কর্মী নিয়োগ করে মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকলেও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এছাড়াও, মন্ত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ— সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় আগামী বাজেটে বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

