তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এ করা প্রশ্নের জবাবে জানা গেল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দফতরকে এড়িয়ে সরাসরি ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। দুই কমিশনারের পাঠানো চিঠির জবাব এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা পরে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরেও পাঠানো হয়েছিল। বুধবার ‘ইন্ডিয়া টুডে’-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরটিআই-এর জবাবে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠির সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, একটি বিতর্কিত নির্দেশ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে চলতি বছরের ২৬ জুলাই ক্যাবিনেট সচিবকে পৃথক দু’টি চিঠি লিখেছিলেন সঁধু ও জোশী। চিঠি দু’টি ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে ৫ অগস্ট ক্যাবিনেট সচিবালয়ের তরফে চিঠির জবাব ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরেও পাঠানো হয়।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার ফলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলেছে, এই তথ্য সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় রাজনীতিতে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুখবীর সিংহ সঁধু ও বিবেক জোশীর অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, ফর্ম ৬-এর বয়ান পরিবর্তন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার মতো একাধিক বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন ওই দুই নির্বাচন কমিশনার। যদিও এই মতবিরোধ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই।
কমিশনের এই ব্যাখ্যার পরেও বিতর্ক থামেনি। বিভিন্ন বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির মতো সংগঠন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আরটিআই-এর মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করল।

