মরণোত্তর চক্ষুদান নাকি অঙ্গপাচার? কৃষ্ণনগরে সমাজকর্মী ও তাঁর পরিবারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্য

মরণোত্তর চক্ষুদান নাকি অঙ্গপাচার? কৃষ্ণনগরে সমাজকর্মী ও তাঁর পরিবারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্য

কৃষ্ণনগর | নিজস্ব প্রতিবেদক মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর চক্ষুদান করে আইনি জটিলতায় শ্রীঘরে সমাজকর্মী আমির চাঁদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতয়ালি থানার কালিরহাট সেনপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় বিজ্ঞানমঞ্চের কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের ‘হয়রানির’ শিকার হতে হয়েছে এক শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে।


ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের দাবি

মঙ্গলবার কোতয়ালি থানার আইসি একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, মৃত রাবিয়া বিবির চক্ষুদান নিয়ে তাঁর পরিবার কোনো বৈধ নথিপত্র (Proper Documents) দেখাতে পারেনি। পুলিশের দাবি:

  • মৃতার স্বামী ও অন্য এক ছেলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন যে, তাঁরা চক্ষুদানের বিষয়ে কিছুই জানেন না।
  • নিয়ম অনুযায়ী, মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে দাতার সম্মতিপত্র অথবা পরিবারের সকল সদস্যের স্বাক্ষরসহ সম্মতিপত্র প্রয়োজন হয়, যা ধৃতদের কাছে ছিল না।
  • গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকেও পরিবারের বিরুদ্ধে চক্ষু বিক্রির লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জামিন মেলেনি এবং বর্তমানে তাঁরা জেল হেফাজতে রয়েছেন। আগামী ১২ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

পরিবারের পাল্টা দাবি

ধৃত আমির চাঁদ পেশায় একজন শিক্ষক ও সমাজকর্মী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর পূর্ব অঙ্গীকার রক্ষা করতেই বহরমপুর মেডিকেল কলেজে চোখ দান করা হয়েছিল। প্রতিবেশীরা একে ‘চোখ বিক্রি’ হিসেবে অপপ্রচার করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। সোমবার আদালতে তোলা হলে তাঁদের ৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও বিক্ষোভ

বুধবার কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার চোখ ছাড়া অন্য সব দেহাংশ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অক্ষত ছিল।

এদিকে এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে কৃষ্ণনগর কোতয়ালি থানার সামনে সরব হয় বিজ্ঞানমঞ্চ, এপিডিআর (APDR) এবং একদল সমাজকর্মী। তাঁদের অভিযোগ:

  1. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  2. পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপে মানুষ ভবিষ্যতে মরণোত্তর চক্ষু বা অঙ্গদানের অঙ্গীকার করতে ভয় পাবেন।
  3. সমাজকর্মীদের দাবি, অবিলম্বে আমির চাঁদ ও তাঁর পরিবারকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

এক নজরে মামলার তথ্য:

  • স্থান: সেনপুর, কালিরহাট, কৃষ্ণনগর।
  • মূল অভিযুক্ত: সমাজকর্মী ও শিক্ষক আমির চাঁদ।
  • অভিযোগ: আইনি নথি ছাড়াই মৃতার চোখ সরিয়ে নেওয়া (গ্রামবাসীদের মতে অঙ্গ পাচার)।
  • বর্তমান অবস্থা: ১২ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.