নানা বিতর্কের জেরে ফের শিরোনামে পাকিস্তান ক্রিকেট। এ বার ইমাম উল হক এবং মহম্মদ রিজ়ওয়ানকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের দলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুরো জাতীয় নির্বাচক কমিটিকেই শো-কজ় (কারণ দর্শানোর নোটিস) করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির নির্দেশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর।
পিসিবির বর্তমান জাতীয় নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন আকিব জাভেদ, সরফরাজ় আহমেদ, আসাদ শফিক এবং প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তবে বোর্ডের কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবারই পদত্যাগ করেন মিসবা। তাঁর মূল অভিযোগ, ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে নির্বাচকদের অন্ধকারে রেখেই সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার সুমেইর আহমেদ স্বাক্ষরিত শো-কজ় নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমাম ও রিজ়ওয়ানকে দলে নেওয়ার নির্দিষ্ট মানদণ্ড, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং আলোচনার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরেও মিসবাকেও এই শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচক কমিটির চার সদস্যের মধ্যে সরফরাজ় আহমেদ আবার টেস্ট দলের অস্থায়ী কোচ হিসেবে বাবর আজ়মদের সঙ্গে বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাঁর এবং অন্য নির্বাচকদের ক্ষেত্রে ব্যাখা চাওয়ার যুক্তি থাকলেও, পদত্যাগী মিসবাকে নোটিস পাঠানোয় পিসিবির প্রশাসনিক পেশাদারিত্ব নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মহসিন নকভির বোর্ড মিসবার ইস্তফা পত্র গ্রহণ না করে উল্টে তাঁর কাছেও জবাব তলব করেছে।
ইংল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর বাবর আজ়মদের দল থেকে ইমাম ও রিজ়ওয়ান ছাড়াও সলমন আলি আঘা, আলি উসমান, আমির জামাল, মহম্মদ জ়াফর এবং খুররম শাহজ়াদ— মোট সাতজন ক্রিকেটারকে আচমকাই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এমনকি সরফরাজ়সহ এক সহকারী কোচকেও বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচকদের পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয় টেস্টের জন্য নতুন করে সাতজন খেলোয়াড় পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই একতরফা সিদ্ধান্তে অপমানিত বোধ করেই মিসবা উল হক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, যা পাক ক্রিকেট মহলে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।

