দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে রজত পাটীদারের মধ্যাঞ্চলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল পূর্বাঞ্চল। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে উভয় দলই ২৬৬ রানে শেষ করার পর, দ্বিতীয় দিনে বাংলার দুই পেসার মহম্মদ শামি এবং মুকেশ কুমারের বিধ্বংসী বোলিং এবং তৃতীয় দিনের সকালে অধিনায়ক ঈশান কিশনের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় পূর্বাঞ্চল। এক দিন বাকি থাকতেই এই জয়ের ফলে দলীপ ট্রফির ফাইনালে পৌঁছে গেল দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ধস ও শামিমু্কেশের জাদু প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকতে না পারলেও ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৫ রান তুলে পূর্বাঞ্চলকে সুবিধাজনক জায়গায় এনে দেন ব্রাত্য হয়ে পড়া ভারতীয় পেসার শামি ও মুকেশ। তৃতীয় দিন সকালে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান বোলাররা। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার আমান মোখাদে ৪১ রান করলেও অন্য প্রান্তে আরিয়ান পান্ডেকে দ্রুত ফেরান অভিজিৎ সরকার। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মধ্যাঞ্চল। যশ রাঠৌর (৫), রিঙ্কু সিংহ (২০), হর্ষ দুবে (২৪), সারাংশ জৈনরা (১) ব্যর্থ হন। নিজের বলেই দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে হর্ষকে আউট করে ফিটনেসের সমালোচকদের কড়া জবাব দেন শামি। শেষ দিকে আর্শাদ খানের ২৫ রানের লড়াকু ইনিংস সত্ত্বেও মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংস ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায়।
পূর্বাঞ্চলের সফল বোলার মুকেশ কুমার ৪৪ রানে ৪ উইকেট এবং মহম্মদ শামি ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন। এ ছাড়া অভিজিৎ, অনুকূল রায় এবং মহম্মদ কৌনাইন কুরেশি প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট দখল করেন।
লক্ষ্য জয় ও ঈশানের দায়িত্বশীল ইনিংস জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও বৈভব সূর্যবংশী জুটি ভালো শুরু করলেও মাঝে দ্রুত কয়েক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পূর্বাঞ্চল। অভিমন্যু (২৪), বৈভব (৪০), বিরাট সিংহ (১২), কুমার কুশাগ্র (২২), অনুকূল (০) ও সুদীপ ঘরামীরা (১৪) সাজঘরে ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন অধিনায়ক ঈশান কিশন। শেষ পর্যন্ত ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থেকে জয় নিশ্চিত করেন শামি (অপরাজিত ৮)। পূর্বাঞ্চল ৬ উইকেটে ১৬২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। মধ্যাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে হর্ষ দুবে ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিলেও দলের হার বাঁচাতে পারেননি। সারাংশ জৈন ও যশ ঠাকুর ১টি করে উইকেট পেয়েছেন।

