আসন্ন উপনির্বাচনের দুই সপ্তাহ পূর্বে প্রচারের ময়দান থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর অভূতপূর্ব ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতারির প্রতিবাদে তিনি নিজে এবং তাঁর পুত্র তথা রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রার্থী গোলাম নবী আজ়াদ আর কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নেবেন না বলে রবিবার জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় দলীয় প্রতীক ‘বাঁশি’ পরিবর্তিত হয়ে ‘টেবিল’ হওয়ায় এমনিতেই প্রশাসনিক রদবদলের মুখে পড়েছিল হুমায়ুনের নবগঠিত দল। এবার উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই একের পর এক দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে পুলিশ গ্রেফতার করায় উস্কে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
পুলিশি অভিযান ও একাধিক গ্রেফতারি
সূত্রের খবর, শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে দলীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন রেজিনগর ব্লক সহ-সভাপতি হক মল্লিক, দাদপুর অঞ্চল সভাপতি আব্দুল আলিম এবং মঞ্জুর রহমান (লেবু)। উল্লেখ্য, মঞ্জুর রহমানের স্ত্রী বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।
এ ছাড়া শক্তিপুরের মিঞাগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে হুমায়ুন কবীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সেনাকর্মী ও ব্যবসায়ী মহম্মদ নাসিম শেখকে। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শক্তিপুরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সভায় পুলিশকে হুমকি ও ঘৃণাভাষণ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার অর্থ জোগানদাতা ছিলেন এই নাসিম। যদিও হুমায়ুনের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর আত্মীয় নাসিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের নতুন কৌশল
পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমরা গণতন্ত্র হত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হচ্ছি। যেখানেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচারে নামছি, ঠিক তার পরদিন পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করছে। ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও কর্মীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই আমরা সরাসরি প্রচারের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এখন থেকে প্রত্যক্ষ জনসভার পরিবর্তে সমাজমাধ্যমকে (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যবহার করে দলের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। দলীয় প্রতীক ‘টেবিল’-এর ছবি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাওয়া হবে। মানুষের রায়ই চূড়ান্ত বলে মেনে নেবেন বলে তিনি জানান।
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অতীতে এই কেন্দ্র থেকেই ৫৮ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন হুমায়ুন। তবে ভোটের ঠিক প্রাক্কালে প্রার্থীর প্রচার স্তব্ধ করে সমাজমাধ্যমে প্রচারের এই সিদ্ধান্ত রেজিনগরের নির্বাচনী সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

