নন্দীগ্রামে বার্তা দিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: শুভেন্দুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম বিজেপি কার্যালয় স্থাপন

নন্দীগ্রামে বার্তা দিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: শুভেন্দুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম বিজেপি কার্যালয় স্থাপন

বিধানসভা উপনির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর করা ‘বন্ধুত্বের’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে নন্দীগ্রামে অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনী সভা থেকে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর বার্তা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রাম বিধানসভার কেন্দামারি অঞ্চলের সরবেড়িয়া গ্রামে স্থানীয় সংখ্যালঘু যুবকদের উদ্যোগে গড়ে উঠল বিজেপির দলীয় কার্যালয়। নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘুদের হাতে তৈরি এটিই প্রথম বিজেপি পার্টি অফিস।

বাঁশ, ত্রিপল ও কাপড় দিয়ে নির্মিত এই কার্যালয়ের সামনে টাঙানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি এবং বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের প্রচারের ব্যানার। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু যুবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাতারাতি কার্যালয়টি সাজিয়ে তুলেছেন।

শুভেন্দুর ‘বন্ধুত্ব দিবসের’ আহ্বান ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

গত শুক্রবারের জনসভা থেকে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে সংখ্যালঘু সমাজের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “সংখ্যালঘুদের কাছে শুভ সুযোগ এসেছে আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার। আগামী ৬ তারিখ বন্ধু দিবস, আর ৯ তারিখ গণনা দিবস। আসুন, আমরা একসঙ্গে চলি এবং আধুনিক নন্দীগ্রাম গড়ার এই উন্নয়নে আপনিও অংশীদার হোন।”

শুভেন্দুর এই আহ্বানের পরপরই দলীয় কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সানোয়ার আলি সাহা জানান, “কার্যালয়টি সম্প্রতি তৈরি হলেও শনিবার তা সাজিয়ে উন্মোচন করা হয়েছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছি।” অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে সানোয়ার বলেন, “২০২১ সালেই আমাদের ভুল ভেঙেছিল। তৎকালীন সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বুঝতে পেরে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে নির্দল হিসেবে লড়ে আমরা জয়ী হই। এখন কোনো ভয়ে নয়, বরং ভালোবেসেই সংখ্যালঘু ভাইয়েরা শুভেন্দুবাবুর পাশে দাঁড়াতে দলে দলে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, সরবেড়িয়া গ্রামের দুটি বুথ মিলিয়ে প্রায় ১,৭০০ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। শনিবার ওই কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা সংখ্যালঘু সমর্থকদের দাবি, আসন্ন উপনির্বাচনে বিজেপির হাসিরানি রথ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।

কংগ্রেসের তোপ ও বিরোধীদের সমালোচনা

অন্য দিকে, শনিবার নন্দীগ্রামে দলীয় প্রার্থী মিলন প্রধানের সমর্থনে চার কিলোমিটার বিস্তৃত বর্ণাঢ্য হুডখোলা গাড়ির শোভাযাত্রায় প্রচার চালান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। হরিপুর থেকে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রচার শেষে, চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শুক্রবারের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “নিজের প্রাক্তন আপ্তসহায়কের মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করছেন, তা অত্যন্ত আপত্তিজনক। তিনি একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে পুলিশমন্ত্রী। এভাবে বারবার বিভিন্ন ব্যক্তির নাম না করে, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাঁদের নাম সামনে এনে অবিলম্বে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুন।”

সংসংখ্যালঘুদের তৈরি এই দলীয় কার্যালয় আগামী ৯ অক্টোবরের ফলাফল প্রকাশের দিনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.