কেন্দ্রীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলিতে বড় ধরনের রদবদল করা হলো। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণণ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার যৌথ সিদ্ধান্তে বিভাগীয় সংসদীয় প্যানেলগুলি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই নতুন বিন্যাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদকে তাঁদের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ছেড়ে নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’য় (এনসিপিআই) যোগ দেওয়া মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদারকে গুরুত্বপূর্ণ কমিটির শীর্ষ দায়িত্বে বসানো হয়েছে।
তৃণমূলের হাতছাড়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল
পুনর্গঠিত কমিটিতে মমতা-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন এবং কীর্তি আজাদকে তাঁদের পদ থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে:
- বাণিজ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটি: এত দিন এই কমিটির চেয়ারপার্সন পদে ছিলেন তৃণমূলের দোলা সেন। তাঁকে সরিয়ে বিজেপির প্রবীণ সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে এই দায়িত্বে আনা হয়েছে।
- রাসায়নিক ও সার বিষয়ক সংসদীয় প্যানেল: কীর্তি আজাদকে সরিয়ে এই কমিটির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁরই একসময়ের দলীয় সহকর্মী তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদারের হাতে।
অন্যান্য বিরোধী ও এনডিএ সাংসদদের পদে পুনর্বহাল
তৃণমূলের পদ খোয়ানোর ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ছাড়া বেশিরভাগ সংসদীয় প্যানেলের শীর্ষপদে কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি:
- কংগ্রেস ও বিরোধী দল: বিদেশ বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে শশী থারুর এবং কৃষি বিষয়ক কমিটিতে চরণজিৎ সিংহ চান্নি বহাল রয়েছেন। এছাড়াও কংগ্রেসের মুকুল ওয়াসনিক এবং সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদবকে (পাঠ্যে রামগোপাল বর্মা উল্লিখিত) নিজ নিজ প্যানেলের শীর্ষপদে রেখে দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য বিরোধী ও শরিক দল: ডিএমকের তিরুচি শিবা (শিল্প) এবং কে কানিমাঝি (খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক) পুনর্বহাল হয়েছেন। এনডিএ শরিক দল জেডিইউ, শিবসেনা (শিন্ডে) এবং টিডিপির সাংসদেরাও তাঁদের পদে বহাল রয়েছেন।
- বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্যানেল: অনুরাগ ঠাকুর (কয়লা, খনি ও ইস্পাত), রাজীব প্রতাপ রুডি (জলসম্পদ), ভর্তহরি মাহতাব (অর্থ) এবং নিশিকান্ত দুবে (যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) নিজেদের চেয়ারে রয়ে গিয়েছেন। তবে রেল সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেলে বিজেপির সি. এম. রমেশের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলীয় সাংসদ সুধীর গুপ্তকে।
তৃণমূলের দলীয় বিভাজন ও এনডিএ-র সমীকরণ
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়। প্রথমে বিধানসভায় ৫০ জনেরও বেশি বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থনের কথা জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন। পরবর্তীতে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে প্রায় ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই গঠন করেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষদস্তিদারদের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী সংসদে এনডিএ-কে সমর্থন জানানোর কথা স্পষ্ট ঘোষণা করে। এনডিএ-র সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে মোদী-শাহদের পাশে প্রথম সারিতে এনসিপিআই নেতাদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাকলি ঘোষদস্তিদারের এই নতুন নিয়োগ সেই রাজনৈতিক সমীকরণেরই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

