হরমুজ কাটিয়ে ভারতে পৌঁছাল এলপিজি ট্যাঙ্কার: জোগান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

হরমুজ কাটিয়ে ভারতে পৌঁছাল এলপিজি ট্যাঙ্কার: জোগান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় সাফল্য পেল নয়াদিল্লি। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২৬ জন নাবিকসহ ‘গ্রিন সানভি’ নামক একটি এলপিজি ভেসেল ৪৬ হাজার ৬৫০ টন রান্নার গ্যাস নিয়ে সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে।

ইরান থেকে এলপিজি আমদানি: সাত বছরে প্রথম

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল ৪৪ হাজার টন এলপিজি নিয়ে ‘সি বার্ড’ নামক একটি জাহাজ মেঙ্গালুরু বন্দরে পৌঁছেছে। বর্তমানে সেই জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি করল ভারত। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করলেও, ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতায় এ পর্যন্ত মোট সাতটি ভারতমুখী জাহাজ ওই এলাকা পার হতে পেরেছে। তবে এখনও ১৭টি জাহাজ ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় হরমুজের পশ্চিম পারে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

কালোবাজারি রুখতে কঠোর কেন্দ্র

দেশের বাজারে রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া রুখতে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে:

  • সারা দেশে ৩,৭০০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।
  • নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ১,০০০ জন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরকে ‘শো কজ’ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
  • মজুতদারি বা কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস বা পেট্রোল-ডিজেল মজুত না করার আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে:

“দেশে এলপিজি-র কোনও ঘাটতি নেই। সাধারণ মানুষের ঘরে এবং জরুরি পরিষেবায় রান্নার গ্যাস সরবরাহ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করবেন না।”

সরকার জানিয়েছে, জোগান স্বাভাবিক রাখতে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। সরকারের এই আশ্বাসে বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.