চলতি মরসুমে লিভারপুলের সময়টা যে মোটেও ভালো যাচ্ছে না, শনিবার রাতে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তা আবারও প্রমাণিত হলো। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ঘরের মাঠে গোল উৎসবে মাতল ‘স্কাই ব্লুজ’রা। আর্লিং হালান্ডের অনবদ্য হ্যাটট্রিক এবং লিভারপুলের একাধিক ভুলের মাশুল দিয়ে ৪-০ ব্যবধানে ম্যাচ হারল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।
ম্যাচের শুরু ও প্রথম আঘাত
ম্যাচের শুরুর দিকে লিভারপুলের খেলা দেখে স্কোরলাইন এত বিপর্যয়কর হবে বলে মনে হয়নি। শুরুর দিকে ম্যান সিটিকে বেশ চাপেই রেখেছিল অলরেডরা। কিন্তু ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ়, হুগো একিতিকে এবং খোদ মহম্মদ সালাহ সহজ কিছু সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচে ফেরার রসদ হারিয়ে ফেলে লিভারপুল।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন হালান্ড। নিকো ও’রেইলিকে বক্সে ফাউল করে বসেন ভার্জিল ফান ডাইক। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে সফল স্পট-কিকে সিটিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আঁতোয়া সেমেনিয়োর নিখুঁত ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে সিটির দাপট ও সালাহর পেনাল্টি মিস
বিরতির পর খেলার ছবিটা পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন আঁতোয়া সেমেনিয়ো। এরপর লিভারপুল ম্যাচে ফেরার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মহম্মদ সালাহ। লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল সালাহর প্রথম ম্যাচ, কিন্তু সমর্থকদের জন্য স্মরণীয় কিছু উপহার দিতে পারলেন না তিনি।
সালাহর এই পেনাল্টি মিসের পরই লিভারপুলের যাবতীয় প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন হালান্ড।
বিশ্লেষণ
গোটা ম্যাচে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি যে স্তরের ফুটবল খেলেছে, তাতে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল রক্ষণভাগকে একেবারেই দিশেহারা লেগেছে। পেপ গুয়ার্দিওলার দলের এই জয় যেমন তাদের ট্রেবল জয়ের স্বপ্নকে জিইয়ে রাখল, তেমনই লিভারপুলের জন্য মরসুমের বাকি পথটুকু আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
এই হারের ফলে এফএ কাপ থেকে বিদায় নিল লিভারপুল, আর হালান্ড আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।

