রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শনিবার খড়্গপুর সদর আসনের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের মনোনয়ন পর্বে শামিল হলেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন দিল্লির বিজেপি নেত্রী তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। দুই মেদিনীপুরের দুই হেভিওয়েট নেতাকে দীর্ঘ পথ একসঙ্গে রোড শো করতে দেখে উৎসাহিত হয়ে পড়েন কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক।
রোড শো ও সদ্ভাবের ছবি
মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে আয়োজিত বিশালাকার রোড শো-তে দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর পারস্পরিক রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো।
- মাল্যদান: জনসমক্ষে শুভেন্দু অধিকারী রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে দেন দিলীপ ঘোষকে। পাল্টা মালা পরান দিলীপবাবুও। এই দৃশ্য দেখে হাততালি দিয়ে তাঁদের উৎসাহিত করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত।
- জনজোয়ার: খড়্গপুরের রাস্তায় এই দুই নেতাকে একাসনে দেখতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। হুডখোলা গাড়ি থেকে দু’জনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন।
শুভেন্দুর লক্ষ্য ও হুঙ্কার
রোড শো চলাকালীন দিলীপ ঘোষের সমর্থনে জোরালো সওয়াল করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন:
“অবিভক্ত মেদিনীপুরের ৩৫টি আসনের মধ্যে ৩৩টিতে আমরা ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছি। বাকি দুটি আসনেও জয়ের জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছি। খড়্গপুর সদর থেকে দিলীপ ঘোষকে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার দায়িত্ব নিতে হবে কর্মীদের।”
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও এদিন রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা সুরক্ষিত নন এবং সারা দেশ তা দেখছে।
রাজ্যজুড়ে বিজেপির মনোনয়ন উৎসব
শনিবার কেবল খড়্গপুর নয়, রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
- অন্যান্য কেন্দ্র: মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, তমলুক, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, বহরমপুর এবং মালদহসহ বেশ কিছু জায়গায় এদিন মনোনয়ন পেশ করা হয়।
- কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতি: ময়নাগুড়ির প্রার্থী ডালিম রায়ের মনোনয়নে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামে প্রার্থীদের সমর্থনে রোড শো-তে অংশ নেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই।
খড়্গপুরের মহকুমা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে দিলীপ ঘোষ তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ-শুভেন্দুর এই ঐক্যবদ্ধ প্রচার তৃণমূল শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

