পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘নীলবাড়ি’ দখলের লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৯টি পৃথক যাত্রার মাধ্যমে জনসংযোগ সারবে গেরুয়া শিবির, যার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভার মাধ্যমে।
কর্মসূচির রূপরেখা ও সমন্বয়
মঙ্গলবার বিধাননগরে রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব দফায় দফায় বৈঠক করেন। সেখানেই এই মেগা ক্যাম্পেইনের নকশা চূড়ান্ত করা হয়।
- মুখ্য সমন্বয়ক: রীতেশ তিওয়ারি।
- আহ্বায়ক: নীলাঞ্জন অধিকারী।
- ব্যাপ্তি: ৫,০০০ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে স্পর্শ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
যাত্রার নির্ঘণ্ট ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
বিজেপির সাংগঠনিক বিভাজন অনুযায়ী, কলকাতা মহানগর বাদে বাকি ৯টি বিভাগ থেকে একটি করে যাত্রা শুরু হবে। মার্চের প্রথমার্ধের মধ্যেই সমগ্র কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
| তারিখ | যাত্রার সূচনা কেন্দ্র | উদ্বোধক (সম্ভাব্য তালিকা) |
| ১ মার্চ | কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি | অমিত শাহ, জেপি নড্ডা, রাজনাথ সিংহ, নিতিন গডকড়ী, স্মৃতি ইরানি প্রমুখ। |
| ২ মার্চ | ইসলামপুর, হাঁসন, আমতা এবং সন্দেশখালি | শিবরাজ সিংহ চৌহান, দেবেন্দ্র ফডণবীস, ধর্মেন্দ্র প্রধান ও নিতিন নবীন। |
দ্রষ্টব্য: ৩ ও ৪ মার্চ দোল ও হোলি উপলক্ষে যাত্রা স্থগিত থাকবে। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে সবক’টি যাত্রা নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবে।
ব্রিগেডে মোদীর জনসভা
‘পরিবর্তন যাত্রা’র শেষে কলকাতা মহানগর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ব্রিগেডে মেগা সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে এই সমাবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) সবুজ সংকেত মিললেই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ তৎপরতা
প্রচার কৌশলের পাশাপাশি প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা ও নিচুতলার কর্মীদের মতামতের ওপর জোর দিচ্ছে বিজেপি। মঙ্গলবার জেলা ও বিভাগীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা।
- লিখিত মতামত: প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তিনটি করে পছন্দের নাম লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা সভাপতি ও ইনচার্জদের।
- তৃণমূল স্তরের যোগসূত্র: এর আগে মণ্ডল স্তরের মতামত নেওয়া হয়েছিল। এবার জেলা ও বিভাগ স্তরের ইনপুট নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই সুপরিকল্পিত প্রচার এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

