ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ: কমিশনের কড়া পদক্ষেপে পিছু হটল নবান্ন, ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR

ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ: কমিশনের কড়া পদক্ষেপে পিছু হটল নবান্ন, ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR

অবশেষে নির্বাচন কমিশনের চরম হুঁশিয়ারির মুখে নতিস্বীকার করল রাজ্য সরকার। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের চার পদস্থ আধিকারিক এবং এক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করল নবান্ন। মঙ্গলবার কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।


ঘটনার প্রেক্ষাপট

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ‘ভুতুড়ে’ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে কমিশন তাঁদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল।

অভিযুক্ত আধিকারিকদের পরিচয়

যাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন:

  • তথাগত মণ্ডল: জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার।
  • দেবোত্তম দত্তচৌধুরী: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর।
  • বিপ্লব সরকার: পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক।
  • সুদীপ্ত দাস: তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট ও অডিট অফিসার।
  • সুরজিৎ হালদার: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর।

উল্লেখ্য, দেবোত্তম ও তথাগত বারুইপুর পূর্ব এবং বিপ্লব ও সুদীপ্ত ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।


নবান্ন বনাম কমিশন: টানাপড়েনের ইতি

কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্য ও নির্বাচন সদনের মধ্যে টানাপড়েন চলে।

  1. আইনি পরামর্শ: নবান্ন প্রথমে অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নিয়ে জানিয়েছিল যে, এই অপরাধ এফআইআর করার মতো গুরুতর নয়।
  2. কমিশনের কড়া অবস্থান: গত ৫ ও ৮ আগস্ট চিঠির পর ২ জানুয়ারি পুনরায় নির্দেশ দিলেও রাজ্য পদক্ষেপ না করায় মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করে কমিশন।
  3. চূড়ান্ত সময়সীমা: গত শনিবার কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মঙ্গলবারের মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি

রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই কমিশনকে চিঠি দিয়ে নির্দেশ পালনের কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চ অসমে রয়েছে। সেখান থেকে ফিরে কমিশন আধিকারিকরা নবান্নের পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখবেন বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.