কলকাতায় রুশ উপদূতাবাসের গাড়িতে পুলিশের তল্লাশি: কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নালিশ দিল্লির

কলকাতায় রুশ উপদূতাবাসের গাড়িতে পুলিশের তল্লাশি: কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নালিশ দিল্লির

কলকাতার রাস্তায় রুশ উপদূতাবাসের (Consulate General of Russia) দুটি গাড়িতে পুলিশের তল্লাশি চালানোর ঘটনায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের রুশ দূতাবাস। তারা বিষয়টি সরাসরি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের নজরে এনেছে এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে।

কী ঘটেছিল?

রুশ উপদূতাবাসের দাবি, গত এক সপ্তাহে শহরের দুই জায়গায় তাদের সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনা দুটির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে এভাবে:

  • ১৪ এপ্রিল: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড এবং রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে পুলিশের তল্লাশিতে পড়তে হয় উপদূতাবাসের গাড়িকে।
  • ১৬ এপ্রিল: চেতলা রোড ও কালীঘাট রোড ক্রসিংয়ে ফের তল্লাশি চালানো হয়।

দূতাবাসের স্পষ্ট দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের গাড়ির পরিচয় জানানো সত্ত্বেও তারা তল্লাশি বন্ধ করেনি।

ভিয়েনা কনভেনশনের প্রসঙ্গ ও কূটনৈতিক বিতর্ক

অভিযোগপত্রে রুশ উপদূতাবাসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ‘ভিয়েনা কনভেনশন’ (Vienna Convention)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিধিমোতাবেক, কোনো দেশের উপদূতাবাসের কাজে ব্যবহৃত গাড়ির ওপর বিশেষ রক্ষাকবচ থাকে এবং সাধারণত তাতে তল্লাশি চালানো হয় না। এই ঘটনাকে সেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিধি এবং শিষ্টাচারের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবেই দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তারা বিষয়টিতে বিদেশ মন্ত্রকের আশু হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে।

পুলিশের অবস্থান ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অপরাধ ঠেকাতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে নিয়মিত ‘নাকা তল্লাশি’ চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই প্রচুর নগদ অর্থ ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের প্রতিটি গাড়িই তাদের নজরদারিতে রয়েছে। তবে উপদূতাবাসের গাড়িতে তল্লাশির অভিযোগ নিয়ে রাজ্য পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে এই ঘটনা ভারত-রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো অস্বস্তি তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.