জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে শনিবারের সন্ধ্যাটা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ম্যাচের ৬০ মিনিটে যখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি আতশবাজির ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল, তখনও মোহনবাগান ১-০ গোলে এগিয়ে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলে জয়বঞ্চিত হতে হলো কলকাতাকে।
লিস্টনের আক্ষেপ মেটানো গোল
ম্যাচের আগের দিনই নিজের ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন লিস্টন কোলাসো। চলতি মরসুমে গোল না পাওয়ার আক্ষেপ মেটাতে তিনি যে মরিয়া ছিলেন, তা বোঝা গেল প্রথমার্ধেই। অধিনায়ক শুভাশিস বসুর থেকে বল পেয়ে বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে ডান পায়ে এক দর্শনীয় জোরালো শট নেন লিস্টন। জামশেদপুর রক্ষণের মাথার ওপর দিয়ে বলটি বারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের সুবাদেই প্রথমার্ধে লিড নেয় মোহনবাগান।
সুযোগ নষ্টের খেসারত ও রক্ষণের ব্যর্থতা
এদিন প্রথম একাদশে দিমিত্রি পেত্রাতোসকে না রেখে রবসনকে নামিয়েছিলেন লোবেরা। তবে জেমি ম্যাকলারেন ও রবসনদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ৩৫ মিনিটের মাথায় লিস্টনের সাজিয়ে দেওয়া সহজ সুযোগ স্লাইড করেও জালে ঠেলতে পারেননি ম্যাকলারেন। গোলের সামনে স্ট্রাইকারদের এই ‘বোতলবন্দি’ দশা এবং সুযোগ নষ্টের প্রবণতাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল।
অন্যদিকে, জামশেদপুর শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। রাফায়েল মেসি বৌলি এবং নিকোলা স্টোজানোভিচ বারবার হানা দিচ্ছিলেন বাগানের রক্ষণে। মাঝমাঠে স্টোজানোভিচের সঙ্গে বল কাড়তে গিয়ে চোট পেলেও লড়াই চালিয়ে যান টম অলড্রেড। ৮৪ মিনিটে বিশাল কাইথ একটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিলেও শেষরক্ষা হয়নি।
নাটকীয় সমাপ্তি ও ঋত্বিকের মরণকামড়
খেলার বয়স যখন শেষের পথে, তখনই ঘটে সেই অঘটন। বাঁ দিক থেকে মেসি বৌলির ভাসানো নিখুঁত ক্রস যখন দূর পাল্লার পোস্টে পৌঁছায়, তখন সেখানে অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বাঙালি উইঙ্গার ঋত্বিক দাস। মোহনবাগান ডিফেন্ডারদের নজর এড়িয়ে অনায়াসে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ১-১ সমতায় ফেরার পর জামশেদপুর শিবিরে উল্লাস থাকলেও বাগান শিবিরে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।
কোচ লোবেরার দুশ্চিন্তা
লিস্টন কোলাসো ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করলেও দলগতভাবে মোহনবাগানের সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে:
- রক্ষণভাগের শিথিলতা: শেষ মুহূর্তে মার্কিংয়ের ভুলে গোল হজম করা।
- গোল নষ্টের প্রবণতা: জেমি ম্যাকলারেনের মতো বড় মাপের স্ট্রাইকারের গোল খরা।
- কৌশলগত ভারসাম্য: পেত্রাতোসকে নামানোর পরেও ব্যবধান বাড়াতে না পারা।
এই ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করল মোহনবাগান। লিস্টনের অনবদ্য গোলটি দিনের শেষে কেবল সান্ত্বনা পুরস্কার হয়েই রয়ে গেল।

