মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রায় ১০টি হাতির একটি দল দ্বারকেশ্বর নদ পার হয়ে বিষ্ণুপুর ব্লকের হিংজুড়ি এলাকায় ঢুকে পড়ে। রাতভর চলা এই তাণ্ডবে আলু, কপি, টমেটো, পেঁয়াজ ও মুসুর ডালসহ বিভিন্ন সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল হাতির দল মাড়িয়ে নষ্ট করায় বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
চাষিদের আর্তনাদ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতের এই হানায় অন্তত ৫০ বিঘা কৃষিজমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হিংজুড়ি এলাকাটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং এখানকার অধিকাংশ চাষিই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষবাস করেন। নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের ওপরই নির্ভর করত তাঁদের সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ। বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে দাঁড়িয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা।
ঘটনার প্রধান তথ্যগুলি:
- হাতির সংখ্যা: অন্তত ১০টি হাতির একটি দল।
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: হিংজুড়ি গ্রাম ও সংলগ্ন কৃষিজমি।
- ফসলের ধরণ: আলু, টমেটো, কপি, পেঁয়াজ ও মুসুর ডাল।
- পরবর্তী পরিস্থিতি: গ্রামবাসীরা রাতভর ধাওয়া করায় হাতির দলটি পুনরায় দ্বারকেশ্বর নদ পার হয়ে জয়পুরের জঙ্গলের দিকে চলে যায়।
বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় এলাকার পরীক্ষার্থীরা এমনিতেই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে। তার ওপর লোকালয়ে হাতির হানা তাদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বন দপ্তরের নজরদারিতে গাফিলতি রয়েছে বলেই বারবার হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বন দপ্তর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিলে আগামী দিনে তাঁদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস
অন্যদিকে, বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার পরেই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হবে।

