মহম্মদ শামির আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে লিড পেলেও, রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে হারের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের জেরে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্য রাখতে পেরেছে লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল। তৃতীয় দিনের শেষে জয়ের জন্য জম্মু-কাশ্মীরের প্রয়োজন মাত্র ৮৩ রান।
শামির রেকর্ড বোলিং ও বাংলার লিড
সোমবার ৫ উইকেটে ১৯৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল জম্মু-কাশ্মীর। মঙ্গলবার সকালে কল্যাণীর বাইশ গজে একক আধিপত্য দেখালেন মহম্মদ শামি।
- শামির দাপট: একাই তুলে নিলেন বিপক্ষের শেষ ৫টি উইকেট। সব মিলিয়ে ৯০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে রঞ্জি ট্রফিতে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান নথিভুক্ত করলেন তিনি।
- প্রতিরোধ: নবম উইকেটে আকিব নবি (৪২) ও যুধবীর সিংহের (৩৩) ৬৪ রানের জুটি কিছুটা লড়াই দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস থামে ৩৩২ রানে। ফলে ২৬ রানের মূল্যবান লিড পায় বাংলা।
ব্যাটিং বিপর্যয়: ৯৯ রানে গুটিয়ে গেল বাংলা
২৬ রানের লিড হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নজিরবিহীন ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলা। চেনা পিচেও চূড়ান্ত ব্যর্থ হন নির্ভরযোগ্য ব্যাটাররা।
- টপ অর্ডার: অভিমন্যু ঈশ্বরণ (৫), সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (০), সুদীপ ঘরামি (০) এবং অনুষ্টুপ মজুমদার (১২)— প্রত্যেকেই দ্রুত সাজঘরে ফেরেন।
- মধ্যক্রম: শাহবাজ় আহমেদ কিছুটা লড়াই করে ২৪ রান করলেও বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা।
ম্যাচের বর্তমান সমীকরণ
জয়ের জন্য মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৩ রান। ওপেনার শুভম খাজুরিয়া ও ইয়ায়ির হাসানকে আকাশ দীপ ফিরিয়ে দিলেও ক্রিজে জমে গেছেন শুভম পুন্ডির (২৩*)। জয়ের জন্য তাদের আর মাত্র ৮৩ রান প্রয়োজন, হাতে রয়েছে ৮ উইকেট।
অন্য সেমিফাইনাল: ফাইনালে এক পা কর্ণাটকের
অন্য প্রান্তের সেমিফাইনালে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে বিশাল জয়ের পথে কর্ণাটক।
- কর্ণাটক: প্রথম ইনিংসে ৭৩৬ রানের পাহাড় গড়েছে।
- উত্তরাখণ্ড: তৃতীয় দিনের শেষে উত্তরাখণ্ডের রান ৫ উইকেটে ১৪৯। দেবদত্ত পাড়িক্কল ও লোকেশ রাহুলদের ব্যাটিং তাণ্ডবের পর কর্ণাটকের ফাইনাল নিশ্চিত বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

