আধুনিক যুদ্ধজাহাজে শক্তিশালী রেডার, নিখুঁত দিক নির্ণয় ব্যবস্থা এবং উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি থাকার কারণে সাধারণত দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকে না। তবে সম্প্রতি আরব সাগরে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কলকাতা (INS Kolkata)-র সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একে নিছক দুর্ঘটনা বলতে নারাজ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় রুটিন টহলদারি চালাচ্ছিল ভারতীয় নৌসেনা। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর টহলদারি জাহাজ পিএনএস হুনেইন (PNS Hunein) দ্রুতগতিতে এসে আইএনএস কলকাতাকে ধাক্কা মারে।
- ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পাক জাহাজের ধাক্কায় ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কলকাতার কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সংঘর্ষের তীব্রতায় পাক জাহাজের সামনের অংশ ভেঙে যায় এবং তাদের নৌসেনার চার জন কর্মী আহত হন। এই বিষয়ে ইসলামাবাদ অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
- কূটনৈতিক পদক্ষেপ: ঘটনার পরপরই নয়াদিল্লি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমদ ওয়ারিচকে তলব করে।
দুর্ঘটনা নাকি সুচিন্তিত কৌশল?
ভারতীয় নৌসেনার ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের এক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধজাহাজে মজুত প্রযুক্তির যুগে সাধারণ ভুলে এমন সংঘর্ষ ঘটা অসম্ভব বললেই চলে। একমাত্র জাহাজের ক্যাপ্টেন সহ সমস্ত নাবিক দায়িত্বে গাফিলতি না করলে এমন ঘটনা ঘটা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দক্ষিণ চিন সাগরে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে চিন যে উস্কানিমূলক ও ভয় দেখানোর কৌশল (তাইওয়ান, জাপান বা ফিলিপিন্সের বিরুদ্ধে যা প্রায়শই দেখা যায়) প্রয়োগ করে থাকে, পাকিস্তান ঠিক সেই পথই অনুসরণ করছে। পাক নৌবাহিনীর সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে রাজি নন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘন
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের আকস্মিক আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির অনুচ্ছেদ ১০-এর পরিপন্থী। ওই চুক্তি অনুসারে, দুই দেশের যে কোনো সামরিক মহড়া, কৌশলগত অনুশীলন বা যুদ্ধজাহাজের টহলদারির রুট ও সময় আগেই পরস্পরকে অবহিত করার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় অত্যন্ত বেনজির ঘটনা বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

