হাওড়ার বাগনানে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার নবান্নের সভাঘর থেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই ঘটনার তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি-র (CID) হাতে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার বার্তা দিয়ে মৃতের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।
কাটমানি ও বাড়ি ঘেরাওকে কেন্দ্র করে অশান্তি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার তিনি এলাকায় ফিরলে তাঁর বাড়ির সামনে বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়ো হন এবং কাটমানি ফেরতের দাবিতে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেন বলে অভিযোগ। উপপ্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প থেকে প্রকৃত প্রাপকদের বাদ দেওয়া এবং কাটমানি নেওয়ার একাধিক অভিযোগ ছিল, যার ভিত্তিতে থানায় মামলাও দায়ের হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বাড়ি ঘেরাওকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মফিজুল এবং তাঁর অনুগামীরা বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি শুরু হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রশান্ত দে-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বাগনানে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে।
“আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না”, রাজ্যবাসীকে আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবারের এই হিংসাত্মক ঘটনায় ইতিমধেই একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পুলিশকে ঘটনার তদন্ত করার জন্য আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
‘‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারও বাড়ি গিয়ে নিজেদের বিচার চাওয়ার দরকার নেই। পুলিশ-প্রশাসনের উপর আস্থা রাখুন। দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না, আমরা ব্যবস্থা নেব। যেটা পুলিশ পারবে না, সেখানে সিআইডি কাজ করবে।’’
আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাগনানের এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই মৃতের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে— অর্থাৎ মৃতের পরিবার সর্বমোট ৯ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবে।
ধৃত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে শান্ত থাকার এবং আইন-শৃঙ্খলার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

