একই লক্ষ্য অর্জনে সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে বিরোধী শিবির। একদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং অন্যদিকে অভিজীত দিপকের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)— উভয় পক্ষই রাজনৈতিক লড়াইয়ে একে অপরের কাছাকাছি আসছে। সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করার পর রাহুল গান্ধী এক ধাপ এগিয়েছিলেন। এ বার বিরোধী দলগুলি এবং সমস্ত রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শুক্রবার জাতীয় পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানালেন সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকে।
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকার পরও সেখানে প্রবেশ করে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তিভঙ্গের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ ও আশুতোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়— এই বার্তা দিতেই শুক্রবার ফের পথে নামার ডাক দিয়েছেন সিজেপি প্রধান। শুক্রবার কনট প্লেসের সামনে ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তার আগে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যুবসমাজ, দেশপ্রেমী এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে আর্জি জানাই, আগামী কাল এসে তেরঙা ওড়ান। আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের উপরে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। গত শনিবার তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভ শুরুর আগেই আটক করা হয়েছিল ককরোচ নেতৃত্বকে। তারপর থেকেই দিল্লিতে নিয়মিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সিজেপির এই বিক্ষোভে বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের পাশাপাশি যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই কর্মীরাও সামিল হয়েছেন। পাশাপাশি, বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের করেছে।
গত শনিবার সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক হেভিওয়েট নেতা আটক হয়েছিলেন। আটক করা হয় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে। যদিও প্রথম দিকে এই বিক্ষোভ থেকে কংগ্রেস কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিল। তরুণ প্রজন্ম সিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়লে কংগ্রেসের জনসমর্থনে প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে সিজেপির হাত শক্ত করা প্রয়োজন। বুধবার রাহুল গান্ধীর বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত মিলেছিল। তিনি বলেছিলেন, ব্যানার ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই— নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এর পরই বৃহস্পতিবার বিরোধী দলগুলির প্রতি ঐক্যের বার্তা দিলেন দিপকে।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি এদিকে, শুক্রবারের ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিয়ন্ত্রিত দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এই ধরনের অননুমোদিত জমায়েত প্রতিহত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অমান্য করে জমায়েত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এমন টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে বিরোধী শক্তিগুলিকে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানালেন সিজেপি প্রধান।

