১৯ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক

১৯ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক

টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সায়ন্তন সান্যালকে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার ভোররাতে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। অভিযোগ, এক রেল ঠিকাদারের কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা ধার নিয়ে তার মধ্যে ১৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা ফেরত দেননি সায়ন্তন। ধৃতকে সোমবার বর্ধমানের সিজেএম আদালতে হাজির করানো হলে তাঁকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সায়ন্তন পেশায় ঠিকাদার। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার অন্তর্গত শ্যামনগরের ব্যানার্জিপাড়া রোডে। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে বর্ধমান থানার পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্রেই তাঁর গ্রেফতারি।

২৫ লক্ষ টাকার বেশি ধার, ফেরত নিয়ে অভিযোগ

পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলার অভিযোগকারী বিশ্বরূপ সাহা পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার সেহারাবাজারের বাসিন্দা। পেশায় তিনিও রেলের ঠিকাদার। ঠিকাদারি কাজের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে সায়ন্তনের পরিচয় হয়। একই পেশায় যুক্ত থাকায় দু’জনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন চলত। মাঝেমধ্যেই বিশ্বরূপের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন সায়ন্তন এবং পরে তা ফেরতও দিতেন। এ ভাবেই দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর বক্তব্য।

অভিযোগ, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দফায় বিশ্বরূপের কাছ থেকে মোট ২৫ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা ধার নেন সায়ন্তন। পরে তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বরূপকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ১৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সায়ন্তন তা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ।

বিশ্বরূপের আরও দাবি, চলতি বছরের ১৭ মার্চ সায়ন্তন তাঁকে এসএমএস করে জানান, তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বরূপের অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা বিশ্বরূপের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। বার বার টাকা ফেরত চেয়েও কোনও লাভ হয়নি। নানা অছিলায় টাকা ফেরত দেওয়া এড়িয়ে যাচ্ছিলেন সায়ন্তন, এমনই অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে।

আদালতের দ্বারস্থ অভিযোগকারী

শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত না পেয়ে বর্ধমানের সিজেএম আদালতের দ্বারস্থ হন বিশ্বরূপ। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক। বর্ধমান থানার আইসিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার পরেই সায়ন্তনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা কী এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।

সায়ন্তনকে আগেই সরিয়ে দিয়েছিলেন, দাবি পাপিয়ার

সায়ন্তনের গ্রেফতারির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বলেন, পুজোর মধ্যেই সায়ন্তনকে আপ্তসহায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক ব্যক্তি সায়ন্তনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন বিধায়ক।

পাপিয়ার কথায়, ‘‘ওকে পুজোর মধ্যেই আমি কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। আমাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। সেই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ওকে (পিএ-র দায়িত্ব থেকে) সরিয়ে দিই। আজ গ্রেফতার হয়েছে শুনলাম। কিন্তু ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে বেশ কিছু দিন।’’

বিধায়ক আরও জানান, নির্বাচনের সময় থেকেই সায়ন্তন তাঁর সঙ্গে কাজ করতেন। তবে তাঁর অগোচরে সায়ন্তন কী করতেন, তা তাঁর পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না বলেও মন্তব্য করেন পাপিয়া। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নির্বাচনের সময় থেকেও ও সঙ্গে ছিল। কিন্তু আমার পিছনে কে কী করে বেড়ায়, আমার তো সবটা জানা নেই। অনেক অভিযোগ শুনেছি ওর বিরুদ্ধে।’’

সায়ন্তনের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় আর কারও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.