শান্তিপ্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিভে রুশ হামলা, ইউক্রেন যুদ্ধ থামার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

শান্তিপ্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিভে রুশ হামলা, ইউক্রেন যুদ্ধ থামার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানতে আমেরিকার মধ্যস্থতায় শান্তিপ্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার বার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালাল রুশ ফৌজ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শান্তি আলোচনার বার্তার ঠিক পরেই এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ও শান্তিপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

মার্কিন দূতের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক ও আলোচনার প্রস্তাব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বুধবার দুপুরে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠক শেষে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, আমেরিকা ও ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় ত্রিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করতে ইচ্ছুক মস্কো। সেই আলোচনা ইতিবাচক হলে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

ঘোষণার পরেই কিভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তবে শান্তি আলোচনার সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই কিভের ওপর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, রুশ ফৌজ তিন দফায় অন্তত ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২১০টি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। এই আকস্মিক হামলায় দু’জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বায়ুসেনা স্বীকার করেছে যে, প্যাট্রিয়ট ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকার কারণে তারা একটি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করতে পারেনি।

শান্তিপ্রক্রিয়ার শর্ত এবং কূটনীতিবিদদের বিশ্লেষণ উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ অগস্ট আলাস্কার ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ‘ভূমি বিনিময়’ (ল্যান্ড সোয়াপিং)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মস্কো এর আগেও একাধিকবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রুশ জনগোষ্ঠীর বসতিপূর্ণ ক্রাইমিয়া এবং ডনবাস অঞ্চল (ডনেৎস্ক ও লুহান্সক একত্রে পরিচিত) কোনো অবস্থাতেই ইউক্রেনকে ফেরত দেওয়া হবে না। তবে পুতিনের এই অবস্থানে সম্মত নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলিও তাঁর এই অবস্থানকে সমর্থন করে আসছে।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বুধবার ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের বৈঠকে শান্তিপ্রক্রিয়ার মূল শর্তগুলো নিয়ে কোনো ঐকমত্য বা সমঝোতা না হওয়ার ফলেই বৃহস্পতিবার কিভের ওপর এই তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.