১৯০৭ সালে অনুশীলন সমিতির বিপ্লবী যুবকদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল বারবনিতারা।

১৯০৭ সালের অক্টোবর মাসে অনুশীলন সমিতির যুবকেরা ঠিক করলেন সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে বিডন স্কোয়ারে একটা সভা করবেন । সভা শুরু হলো ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন । আর তাঁর পরেই শুরু হলো পুলিশের লাঠি চালানো । বিপ্লবী যুবকেরা ইট পাথর ছুঁড়ে পাল্টা আক্রমণ চালাল আর সেই সময় দেখা গেল, চিৎপুরের বাড়ির ছাদ থেকে বারবনিতারা পুলিশের ওপর ইট ছুঁড়ে তাঁদের তাড়িয়ে দেয় ।

অসহযোগ আন্দোলনের সময় ১৯২১ সালে কলকাতার বারবনিতারা আন্দোলনের জন্য অর্থসংগ্রহের কাজে নেমেছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী সোনাগাছি অঞ্চলের বারবনিতাদের নিয়ে সভা করেন।এর পরের বছর বন্যার্তদের সাহায্যের জন্যেও পথে নেমেছিল বারবনিতারা। ত্রাণের জন্য যে রিলিফ কমিটির গঠিত হলো ” বেঙ্গল রিলিফ কমিটি ” যার সভাপতি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , চিত্তরঞ্জন দাস , আশুতোষ মুখোপাধ্যায় , ডাক্তার নীলরতন সরকার প্রমুখ ।

মাত্র কদিনের মধ্যেই এই কমিটি ১ লাখ টাকার ও বেশি সংগ্রহ করতে পেরেছিল। মনাদা দেবীর লেখা বই থেকে জানা যায় সেই সময় ‘ পতিতা সমিতি ‘ গঠিত হয়েছিল তাঁরা লালপাড় শাড়ি পরে কপালে সিঁদুরের ফোটা লাগিয়ে গান গেয়ে টাকা তুলেছিলেন বন্যার্তদের জন্য মাসিক বসুমতিতে এই নিয়ে একটি রচনা লেখা হয় । সংগৃহীত অর্থ তাঁরা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের হাতে তুলে দিয়েছিল। পিতৃস্নেহে এস এস মা লক্ষীরা বলে আচার্য তাঁদের আহ্বান করেন এবং তাঁরা এই অকৃত্রিম স্নেহ দেখে আপ্লুত হয়ে ওঠেন। বরিশালেও পতিতা সমিতি গড়ে ওঠে তাঁর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন গান্ধীবাদী – শরৎকুমার ঘোষ ।

১৯২৪ সালে বারবনিতারা তারকেশ্বরে সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করেন নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং চিত্তরঞ্জন দাস । বাংলার ভদ্র সমাজ এই নিয়ে আবার তীব্র প্রতিবাদ জানায় । প্রবাসী পত্রিকা এই নিয়ে প্রতিবাদ করেন কেন পতিতারা সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করছে বলে। ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাস প্রয়াত হলে তাঁর মরদেহ নিয়ে যে বিরাট মিছিল হয়েছিল সেই মিছিলে পা মেলান বারবনিতারা ।

১৯৩০মেদিনীপুরে নন্দীগ্রামে সত্যবতী নামে একা বারবনিতা নারী লবণ সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করে পুলিশদ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন।
তমলুকে ১৯৪২ এর আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত কয়েকজন বিপ্লবীর প্রাণ বাঁচিয়েছিল এক পতিতা নারী । এ রকম অনেক দৃষ্টান্ত হয়তো আছে বিছিন্ন ভাবে তাঁরা আন্দোলনে সহয়তা করেছিলেন বা করে গেছেন। সে ইতিহাস কোননা কোন একদিন নিশ্চয় লেখা হবে।

সৌমেন ভৌমিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.