বিশ্ব যোগ দিবস ২১ জুন ২০২০, সকাল ৭ টায় ক্রীড়া ভারতীর পরিচালনায় একটি অনুষ্ঠানে মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী জগদীপ ধনখর যোগ এবং শরীরচর্চা বিষয়ে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন

বিশ্ব যোগ দিবস ২১ জুন ২০২০, সকাল ৭ টায় ক্রীড়া ভারতীর পরিচালনায় একটি অনুষ্ঠানে মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী জগদীপ ধনখর যোগ এবং শরীরচর্চা বিষয়ে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন

Honorable Governor Shri Jagdeep Dhankhar will deliver his valuable speech on Yoga and Physical Exercise at a function hosted by Kreeda Bharati on World Yoga Day 21 June 2020 at 7 am

 প্রায় ২৫০০ বছর আগে পতঞ্জলি প্রথম যোগসূত্র নামে একটি বই লেখেন। যোগাসন নিয়ে এটিই প্রথম বই। প্রকৃতপক্ষে যোগ হলো ক্রমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে মনকে শুধু ওই চিন্তায় সমাপতিত করতে  হয়। দেহ ভঙ্গির মাধ্যমে শরীরকে স্থির লক্ষের দিকে নিয়ে যেতে হয় যাতে করে শরীর, মন ও বুদ্ধিকে একত্রিত করে চিন্তার লক্ষ্যমূলে পৌঁছানো সম্ভব হয়। সেই বিশ্ব যোগ দিবস  ২১ জুন ২০২০ সাল , প্রাতঃ ৭ ঘটিকা থেকে ৮ ঘটিকা সময় কালে ক্রীড়া ভারতীর পরিচালনায় #যোগা নামক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানটিতে মাননীয় রাজ্যপাল যোগ এবং শরীরচর্চা বিষয়ে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন।  
আমাদের দেশে যোগের সূত্রপাত খৃষ্টপূর্ব ২০০০ বছর আগে । সুস্থ দেহে সুস্থ মন নিয়ে নিরোগ জীবন যাপনের লক্ষ্যে আমাদের দেশের মুনি ঋষিরা যোগ ব্যায়ামের প্রচলন করেন। ভারতের প্রাচীন কালের মুনি-ঋষি যেমন গোরক্ষনাথ, মহামুনি পতঞ্জলি, সুশ্রুতদের হাত ধরে আমাদের দেশে যোগের প্রচলন হয়। যোগ ব্যয়াম চর্চা আশ্রম কেন্দ্রীক হলেও আজ আর তা নয় । মানুষের নিত্য জীবন চর্চার অঙ্গ হিসেবে যোগ সারা বিশ্বে স্বীকৃতি আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে যোগাভ্যাস অনেকাংশে সহায়তা করে থাকে।

যোগ এমন একটি অনুশীলন  – যার দ্বারা ব্যক্তি সুষম উপায়ে নিজের আত্মশক্তির বিকাশ করতে সক্ষম হয়। আত্মজ্ঞান লাভের একটি অন্যতম মাধ্যম হলো যোগ। যোগের মাধ্যমে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে বিলিত হয়। চিত্তের চঞ্চলতাকে নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিকেও যোগ বলা হয় |
যোগ নিয়ে ব্র্যাইলি পদ্ধতিতে লেখা একটি প্রস্তক প্রকাশ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী বলেন যে যোগ হল শিল্প বিজ্ঞান ও দর্শনের সমন্বয়। একজন মানুষ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মন ও হৃদয়ের মাধ্যমে শারীরিক শক্তি অর্জন করে। যোগের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক, নৈতিকতা ও আধ্মাতিকতার  প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও যোগের উপকারিতা সম্পর্কে সকলকে উৎসাহিত করছে বলে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।যোগ এর কয়েকটি অতি পরিচিত পদ্ধতি জপ যোগ: কোন পবিত্র শব্দ উচ্চারন করে তাতে মনস্থির করা। অন্যান্য যোগ পদ্ধতিগুলো হলো –
কর্মযোগ: এই ধরনের সাধনার ক্ষেত্রে যোগী সকল প্রকার কৃত কাজ-কর্মকে ইশ্বরের কাজ হিসেবে বিবেচনা করে নিজের কর্তব্য হিসেবে বোধ করে সম্পাদন করেন। একইসাথে সেই কাজের ফলাফলের প্রতি নিরাশক্ত থাকেন।
জ্ঞান যোগ: বেদ-বেদাঙ্গ, শ্রুতি ইত্যাদি অধ্যয়ন সহ সাধু সঙ্গ এবং ধ্যান অভ্যাসের দ্বারা জ্ঞান লাভ করে আত্মা এবং পরমাত্মার বিভেদ জ্ঞানই জ্ঞান-যোগ।
ভক্তি যোগ: ভক্তি যোগের সাধক সম্পূর্ণ অহংকারমুক্ত এবং বিনয়ী হন। জগত-সংসারের লোভ, কামনা, দুঃখ, ক্লেশ, দ্বন্ধ তাকে প্রভাবিত করতে পারে না |
রাজ যোগ:  অষ্টাঙ্গ  যোগ নামে অতি পরিচিত ‘রাজযোগ মানুষের ব্যক্তিত্বের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য উপযোগী। যম, নিয়ম, আসন, প্রানায়াম, প্রত্যাহার, সাধনা, ধ্যান এবং সমাধি অষ্ঠাঙ্গ যোগের অংশ।
 অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং উপযোগী একটি যৌগিক ব্যয়াম হলো সূর্য প্রনাম। একই সঙ্গে আসন, প্রানায়াম এবং মুদ্রার সুফলগুলো সূর্য নমস্কারের মাধ্যমে লাভ করা যায়। ১২টি ভঙ্গির একটি ক্রমে উদিত সূর্যের দিক মুখ রেখে খুব ভোর বেলা এই অভ্যাস করতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত অভ্যাস করলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ সুষম রক্ত প্রবাহের দ্বারা শরীরের সব কটি তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়ে শরীর ও মনে পূর্ণতার শক্তি সঞ্চারিত হয় ।

 পতঞ্জলী সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের  সত্তা স্বীকার করে মানব জাতির পরিত্রান সাধনের উদ্দেশ্যে যোগ শাস্ত্র প্রবর্তন করেন। মানুষের নানা প্রকার চিত্তবৃত্তি আছে এবং এই সব বৃত্তির ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নির্ধারিত আছে। যেমন দর্শনের বিষয় রূপ,  শ্রবনের বিষয় শব্দ, ঘ্রানের বিষয় গন্ধ ইত্যাদি। মনকে  এই সকল বিষয় থেকে নিবৃত্ত করে পরমেশ্বরের বিষয়ে ধ্যান করাকে যোগ বলে। এই যোগের ৮টি অঙ্গ আছে যেমন প্রথম যম, দ্বিতীয় নিয়ম, তৃতীয় আসন, চতুর্থ প্রানায়াম, পঞ্চম প্রত্যাহার, যষ্ঠ ধারনা, সপ্তম ধ্যান সকল পুন্য ফলদায়ক সমাধি অষ্টম। কয়েক সহস্র বছর আগে আমাদের দেশে সৃষ্টি হওয়া যোগাসন শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। যোগামনের মাধ্যমে সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে শেখায়।  আমাদের দেশে বহু বিদেশী খেলা ও অভ্যাস জনপ্রিয়  হয়েছে। অথচ যোগাসনকে জনপ্রিয় করার জন্যে তেমন কোন প্রয়াস দেখা যায়নি এ পর্যন্ত।
যোগাসন করার ক্ষেত্রে বয়সের কোন বাধা নেই। উৎসাহী হলে যে কোন বয়সেই যোগাসন করা যায়। যোগাসন করার ক্ষেত্রে বিশাল কোন জায়গার প্রয়োজন নেই। নেই কোন যন্ত্রপাতি বা প্রশিক্ষণ সামগ্রীর প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন একটি স্থান যেখান আলো হাওয়া ভালোভাবে প্রবেশ করবে। সঙ্গে চাই একটি ফ্লোর ম্যাট বা মাদুর এবং অবশ্যই যোগাসন করার ইচ্ছা শক্তি।
তাই , আসুন ২১ জুন ২০২০( সকাল ৭ থেকে ৮ )  এই ভীষন করোনার অতিমারীতে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য যোগাভ্যাস বা শরীর চর্চা বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করি। যোগাভ্যাস ও শিক্ষষা বিষয়টিকে সাফল্য মন্ডিত করে তুুলি। আসুন যোগব্যায়ামের সঙ্গে  ক্রীড়া ভারতীর পরিচালনায় #যোগা নামক অনুষ্ঠানটি কে সফল করি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.