বৃহস্পতিবার করিমগঞ্জ আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বরাকের তিন জেলার ১৫টি আসনকে নিয়ে প্রস্তাবিত ‘বিজয় সংকল্প সমাবেশে’ দেবেন নির্বাচনি ভাষণ

আগামী বৃহস্পতিবার ১৮ মাৰ্চ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করিমগঞ্জ আসছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে করিমগঞ্জ সহ বরাকের দলীয় ও মিত্রজোটের প্রার্থীদের পালে হাওয়া তুলতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। বৃহষ্পতিবার সকাল এগারোটায় শহর সংলগ্ন ভাটগ্রামে দলীয় বিজয় সংকল্প সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেঁষা শহর করিমগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্ৰ করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাটগ্রামের সমাবেশস্থল সহ সমগ্র শহরকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ে দেওয়া হয়েছে। 
করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামীকাল থেকে সমাবেশের জন্য তৈরি সুবিশাল সভামঞ্চকে কেন্দ্রে রেখে চতুর্দিকের পাঁচ কিলোমিটার এলাকাকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা চাদরে ঘিরে দখল নেবে বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী (এসপিজি)। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য নির্মিত অস্থায়ী হেলিপ্যাডে আজ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মহড়া দিয়ে গিয়েছে। 
এদিকে জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য নির্মিত মঞ্চ সহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজে শেষ তুলির টান চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি পর্ব সরজমিনে প্রত্যক্ষ করতে মঙ্গলবার ভাটগ্রামে আসেন শিলচরের সাংসদ ডা. রাজদীপ রায়। তিনি মঞ্চ সহ হেলিপ্যাডের নির্মাণ কাজের তদারকি করেন। একফাঁকে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ রাজদীপ বলেন, বরাকের ১৫টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১/১২টি আসনে জয়ী হবে। সমগ্র দেশের সঙ্গে বরাক উপত্যকার জনগণও বিজেপি সরকারের সুশাসনে নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সব-কা সাথ, সব-কা বিকাশ ও সব-কা বিশ্বাসের নীতিবলে সমগ্র দেশে উন্নয়নে জোয়ার এসেছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের জনগণ প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওপর আস্থা ও ভরসা রেখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপিকে আপন করে নিয়েছেন। এই রাজ্যেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে বিজেপি সরকার সফল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের নেতৃত্বে হান্ড্রেড প্লাস মিশন‌ও সফল হবে। রাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিজেপিই সরকার গড়বে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন সাংসদ ডা. রাজদীপ রায়। 
প্রধানমন্ত্রীর বিজয় সংকল্প সমাবেশের আয়োজন প্রসঙ্গে জেলা সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, করিমগঞ্জের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো সীমান্ত শহরে আসছেন। বৃহস্পতিবার সকাল এগারটায় প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার করিমগঞ্জের মাটি স্পর্শ করবে। এই ঐতিহাসিক লগ্নের প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন জেলাবাসী। হাতে মাত্র ৩৬ ঘণ্টা সময় রয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য। তিনি জানান, সুবিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সমাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী ও বিশেষ অতিথিদের জন্য অতিথি কক্ষ, চারটি হেলিপ্যাড, মিডিয়া ও সম্মানিত অতিথিদের জন্য ব্যারিকেড করে পৃথক বসার জায়গা। তাছাড়া সাধারণ জনতার জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
সুব্রতবাবু আর‌ও জানান বিজয় সংকল্প সমাবেশে তিন লক্ষ লোকের জমায়েত হ‌ওয়ার প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। বরাকের তিন জেলার পনেরোটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লোক এই সমাবেশে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই সমাবেশ করিমগঞ্জে এক নতুন ইতিহাস রচনা করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রীর বিজয় সংকল্প সমাবেশকে সফল করে তুলতে জেলা কমিটি থেকে বুথ পর্যায়ের কমিটিগুলো‌ও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। 
করিমগঞ্জ শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান দেবব্রত সাহা বলেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতির কাজ চলছে। চারটি হেলেপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সুরক্ষার জন্য সঙ্গে আসা হেলিকপ্টার থাকবে এবং অন্যটি মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার হেলিকপ্টার অবতরণ করবে। তবে অনিবার্য কারণে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে অনুপস্থিত থাকবেন। হেলিকপ্টার থেকে প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে করে মঞ্চে আসবেন। তাই পৃথকভাবে মঞ্চের সঙ্গে সংযোগ করতে পাকা সড়ক তৈরি করা হয়েছে। 
জেলা বিজেপির মুখপাত্র নিশিকান্ত ভট্টাচার্য জানান, সংবাদকর্মীদের জন্য পৃথক বসার জায়গা ও ক্যামেরাম্যানদের জন্য পৃথক মঞ্চ তৈরি করা হবে। মিডিয়ার লোকদের যাতে সভাস্থলে প্রবেশ করতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য পৃথকভাবে পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান নিশিকান্ত ভট্টাচার্য। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.