‘কৃষি আইনে বিস্তর সুবিধা’, কৃষকদের ফের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

কৃষি আইন বাতিলে অনড় লক্ষ লক্ষ কৃষকদের জন্য ফের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। শনিবার তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের জন্য দায়বদ্ধ। নতুন সংস্কারমূলক আইনটি সেই কারণেই আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘এই আইনের ফলে কৃষকরা বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারবেন। প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারবেন। কৃষিক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগের দরজা খুলে যাবে। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে’।

যদিও কৃষি আইনটিকে বেসরকারি সংস্থার জন্য বানানো হয়েছে এমন দাবিতে অনড় সারা ভারত কৃষক সভার নেতৃত্বে চলা অন্যান্য কৃষক সংগঠনগুলি। বাম কৃষক সংগঠনটির পাশে এসেছে বিভিন্ন সংগঠন ও কেন্দ্রীয় ট্রেডইউনিয়ন। বাম, কংগ্রেস সহ বিজেপি বিরোধী দলগুলির দাবি, নতুন কৃষি আইন দেশের কৃষি ক্ষেত্রে কর্পোরেট সংস্থার হামলা ডেকে আনছে। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করতে কৃষক সংগঠনগুলি রাজধানী নয়া দিল্লি ঘিরে রেখেছেন।

অন্তত ১২ লক্ষ কৃষক টানা ১৭ দিন হলো অবরোধ ও ঘেরাওয়ে সামিল। কৃষক আন্দোলনে অংশ নিতে আরও লক্ষাধিক কৃষক ঘেরাও অভিযানে অংশ নিতে আসছেন বলে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি।

সরকার আইন বাতিল না করলে দেশ জুড়ে রেল রোকো ও টোল প্লাজা অবরোধ জারি থাকবে বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এই বিক্ষোভের জেরে ইতিমধ্যেই ভারত বনধের প্রভাব সরকারের চিন্তার কারণ।

কৃষক বিক্ষোভের অন্যতম নেতা সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, কোনওভাবেই কৃষি আইন মেনে নেওয়া হবে না। সরকারকে আইন বাতিল করতেই হবে। অন্যান্য কৃষক সংগঠনগুলিরও একই দাবি।

সিপিআইএম ও সিপিআইনের শাখা সংগঠন কৃষক সভার নেতৃত্বে চলা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র । লক্ষ লক্ষ কৃষক তৈরি সরকারকে অন্তত ৬ মাস ঘিরে রাখতে। ধর্মঘটের পর দেওয়া হয়েছে রেল রোকো হুমকি। আন্দোলনে ব্যাতিব্যস্ত এনডিএ সরকারের কাছে আবারও কড়া বার্তা দিয়েছেন হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌতালা।

কৃষি আইনের প্রতিবাদে চলতে থাকা আন্দোলনের মূল দাবির একটি হলো ন্যুনতম সহায়ক মূল্য বজায় রাখা। এই দাবি না মানলে হরিয়ানার বিজেপি সরকার পড়ে যেতে পারে। ফের এমনই হুঁশিয়ারি এসেছে উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌতালার তরফে। তিনি পদত্যাগের হুমকি ফের দিতেই হরিয়ানার সরকার ঘিরে রাজনৈতিক আলোড়ন।

পরিস্থিতি এমন যে দিল্লি প্রায় অবরুদ্ধ। হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব থেকে আরও লক্ষাধিক কৃষক আসছেন বিদ্রোহে যোগ দিতে। দিল্লি সংলগ্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সরকার আন্দোলনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের মোদী সরকারের মতোই কোণঠাসা। পাঞ্জাব ও রাজস্থান কংগ্রেসের দখলে থাকায় এই দুই রাজ্য কৃষি আইনের বিরোধিতা করেছে।

হরিয়ানার জাঠ কৃষক সংগঠনগুলি এই আন্দোলনের যৌথ মঞ্চ অল ইন্ডিয়া কিষান সংঘর্ষ সমিতি তে সামিল হওয়ায় আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.