হাতে একে ৪৭, সিএসটি স্টেশনে রক্তের হোলি খেলে ‘ভেঙে পড়া ফুটওভারব্রিজ’ দিয়েই বেরিয়েছিল আজমল কাসভ

সালটা ২০০৮। ২৬ নভেম্বর। মাঝরাত। মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাসের যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে তখন শুধুই রক্ত আর চিৎকার। দুই যুবকের একে ৪৭-এ ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছেন ৫৮জন। আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন আরও ১০৪ জন। আর তখন একে ৪৭ হাতে দুই যুবক এক ফুটওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পেরিয়ে চলেছে পাশের কামা হাসপাতালের উদ্দেশে। হ্যাঁ, বৃহস্পতিবার সিএসটি স্টেশনের কাছে ভেঙে পড়া ফুটওভারব্রিজ ধরেই সেদিন স্টেশন থেকে বেরিয়েছিল আজমল কাসভ ও ইসমাইল খান। ২৬/১১-এর মুম্বই হামলার অন্যতম দুই জঙ্গি।

সে দিনের পর থেকে এই ওভারব্রিজকে অনেকেই ‘কাসভ ব্রিজ’ বলে থাকেন। এই ব্রিজ পেরিয়ে যাওয়ার সময়ই মুম্বইয়ের চিত্রসাংবাদিক সেবাস্টিয়ান ডি’সুজা ছবি তুলে রাখেন কাসভের। পরে এই ছবি দেখে তাকে চিনতে সুবিধা হয়েছিল। সেদিন অনেক রাত হয়ে যাওয়াতে অবশ্য ওভারব্রিজের উপর লোক ছিল না। ফলে সহজেই স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল তারা। কিন্তু এ দিন ব্যস্ত সময়ে ভিড়ে ভর্তি ব্রিজ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হলো ৫ জনের। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও অনেকে।

১৯৮৪ সালে তৈরি করা হয় এই ফুট ওভারব্রিজ। সিএসটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে রাস্তা পেরিয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়া বিল্ডিং পর্যন্ত গিয়েছে এই ব্রিজ। যাতায়াতের সুবিধার জন্য অনেকেই এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন। ফলে প্রায় সবসময়ই লোক থাকত সেখানে। এ দিনও ছিল। আর তার ফলেই ব্রিজ ভেঙে পড়ার পরে এত মানুষ হতাহত হয়েছেন।

মুম্বইয়ে অবশ্য ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে সেন্ট্রাল মুম্বইয়ের প্রভাদেবী স্টেশনের কাছে এলফিনস্টোন ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ব্রিজ থেকে নামার হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ২৩ জন। গত বছরই জুলাই মাসে অবিরাম বৃষ্টির ফলে অন্ধেরি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। অন্ধেরি ব্রিজ ভেঙে পড়ার পরেই মুম্বইয়ের ৪৬৫টি ব্রিজকে পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে সিএসটি স্টেশন লাগোয়া এই ফুট ওভারব্রিজও ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সকাল থেকেই ব্রিজের একটা অংশে মেরামতির কাজ চলছিল। কিন্তু তারপরেও যাতায়াত বন্ধ করা হয়নি। কেন যাতায়াত বন্ধ করা হলো না, সেই প্রশ্নই তুলছেন মৃত ও আহতদের পরিবার। আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত বলেই মনে করছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.