পুরভোটের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা নয়, ৩০ নভেম্বরের পর ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের ঘোষণা মমতার

পুরভোটের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা নয়, ৩০ নভেম্বরের পর ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের ঘোষণা মমতার

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের দিন ঘোষণা করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের পরেই পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দিনের পর দিন কলকাতার বাসিন্দারা নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। শুক্রবার রাতে উত্তর কলকাতার একটি কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি জানান, আগামী ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি কথা দিলাম, ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পুরআইন মেনে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করে দেব।’’ পুরভোট সংক্রান্ত মামলা আদালতে সরকার যথাযথ ভাবে লড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের নিশানা করে মমতার কটাক্ষ, নির্বাচনে জেতার মতো প্রার্থী বা ভোটার—কোনওটাই তাদের নেই। তাই ভোট আটকানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ‘‘আপনারা নির্বাচনে জিততে পারবেন না। তাই আদালতে গিয়েছেন, যান। আমিও লড়ব। সরকার লড়বে।’’

পুরসভার পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতার মানুষ জল পাবেন না, রাস্তা পরিষ্কার হবে না, পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ থাকবে কিংবা রাস্তায় আলো জ্বলবে না—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। যানজটের সময় পুলিশের সঙ্গে পুরসভার সমন্বয় এবং রাস্তাঘাটের গর্ত মেরামতির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানে আইন মেনেই বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ৩০ নভেম্বরের পর ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ চালানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে লড়াই করে লাভ নেই। তিনি একাধিক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও যে কোনও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য সরকার। ওই বিজ্ঞপ্তির বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে সিপিএম। গত ২৯ অক্টোবর মামলার শুনানিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি বিচারপতির সিঙ্গল বেঞ্চ। রাজ্যকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মামলাকারী। শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের দিন ঘোষণা করা যাবে না।

এ দিন কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে কলকাতার পুজোর প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বার কলকাতায় প্রায় ৩৪০০টি কালীপুজো হচ্ছে। নির্বিঘ্নে পুজো সম্পন্ন করার দায়িত্ব আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, প্রশাসন এবং ভক্ত—সকলের। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই পুজো সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

একই সঙ্গে এ বারের দুর্গাপুজোয় চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ২৫ জন। মমতা বলেন, ‘‘এ বার সুন্দর ভাবে পুজো করেছি আমরা। তা-ও এক মিনিটের ভুলের জন্য চোরবাগানের মতো বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে।’’ এ বার কালীপুজোর দিন দক্ষিণেশ্বরে কাটানোর ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক মহলের নজর এখন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের প্রক্রিয়ার দিকে। আদালতের নির্দেশের মধ্যে থেকেই কী ভাবে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা হয়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.