মণীশ শুক্ল খুনের মামলা ঘিরে অর্জুন সিংহকে নিশানা কৌস্তুভের, বিজেপির দফতরের সামনে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি

মণীশ শুক্ল খুনের মামলা ঘিরে অর্জুন সিংহকে নিশানা কৌস্তুভের, বিজেপির দফতরের সামনে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি

২০২০ সালে উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লকে গুলি করে খুনের ঘটনা ঘিরে এ বার দলেরই নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহকে নিশানা করলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী। পুরনো ওই খুনের মামলা নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়ে কৌস্তুভের অভিযোগ, মণীশ হত্যাকাণ্ডে যাঁদের নাম জড়িয়েছিল, তাঁদের কয়েক জনের সঙ্গে বর্তমানে বিজেপির কিছু নেতার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন দুই পুরপ্রধান উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন তিনি। প্রয়োজনে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

অর্জুন সিংহকে নিশানা কৌস্তুভের

২০২০ সালে টিটাগড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লকে। সেই হত্যাকাণ্ডের মামলা নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছেন কৌস্তুভ। তাঁর দাবি, মামলাটি নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব, সিআইডির ডিজি এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।

কৌস্তুভের অভিযোগ, মণীশ খুনের ঘটনায় যাঁদের নাম জড়িয়েছিল, তাঁদের কয়েক জনের সঙ্গে বিজেপির কিছু নেতার ওঠাবসা রয়েছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অর্জুন সিংহ-সহ কয়েক জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি দেখিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

কৌস্তুভ বলেন, ‘‘আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লর হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। এগুলো দেখতে ভাল লাগছে না।’’

অর্জুন সিংহের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘অর্জুন সিংহের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনও রাগ নেই। তিনি বড় নেতা। আমাদের অভিভাবক। কিন্তু আপনার সঙ্গে এদের ছবি দেখতে ভাল লাগে?’’

কৌস্তুভের এই অভিযোগের বিষয়ে অর্জুন সিংহের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উত্তম ও প্রশান্তকে বিজেপিতে নেওয়ার বিরোধিতা

মণীশ শুক্ল খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন কৌস্তুভ। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন দুই পুরপ্রধান উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে কোনও অবস্থাতেই বিজেপিতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না।

নিজের অবস্থানের পক্ষে অনড় থাকার কথা জানিয়ে কৌস্তুভ বলেন, এর আগে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন মাথা কামিয়ে রেখেছিলেন তিনি। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতেও পিছপা হবেন না। এমনকি, দরকার হলে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক।

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দলের অন্দরেই কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

কৌস্তুভকে পাল্টা আক্রমণ নিহত নেতার বাবার

অন্য দিকে, মণীশ শুক্ল খুনের মামলা নিয়ে কৌস্তুভের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত বিজেপি নেতার বাবা চন্দ্রমণি শুক্ল। তাঁর দাবি, মামলাটি চলাকালীন ব্যারাকপুরে কোনও আইনজীবীকে না পেয়ে তাঁরা কৌস্তুভের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

চন্দ্রমণির অভিযোগ, প্রথমে মামলা লড়তে রাজি হয়েছিলেন কৌস্তুভ। কিন্তু পরে প্রাণের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি মামলা লড়তে অস্বীকার করেন।

নিহত বিজেপি নেতার বাবার আরও দাবি, বর্তমানে কয়েক জন মণীশের নাম ব্যবহার করে ব্যারাকপুরে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এক দিকে পুরনো খুনের মামলাকে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ, অন্য দিকে দলের নেতাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের অভিযোগ এবং নিহত নেতার বাবার পাল্টা বক্তব্য— সব মিলিয়ে মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যারাকপুরের বিজেপির অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.