ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আসন্ন সিরিজে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটে যুক্ত হতে চলেছে সম্পূর্ণ নতুন এক প্রযুক্তি, যার নাম ‘সনিক’। মূলত ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) আরও নির্ভুল করার কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ব্যাটে বলের স্পর্শ ঘটেছে কি না, তা এবার সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যাবে শব্দের তারতম্য বা ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে। ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এইবারই প্রথম।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এই অভিনব প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে ‘ভার্চুয়াল আই’ (Virtual Eye) নামক প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৮ সাল থেকেই তারা আইসিসি-র বল-ট্র্যাকিং প্রযুক্তির অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। নিউজিল্যান্ডে উদ্ভাবিত এই ‘সনিক’ প্রযুক্তি তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিসিআই)।
সাধারণত ক্রিকেটে ব্যাটে বলের সংযোগ নির্ধারণের জন্য ‘আল্ট্রা-এজ’ (Ultra-Edge) প্রযুক্তির ওপর ভরসা করা হয়। তবে ব্যাটার শট খেলার সময় ব্যাট ও প্যাড খুব কাছাকাছি থাকলে অনেক সময়ই তা স্পষ্ট বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই ‘সনিক’ প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁতভাবে বোঝা সম্ভব হবে যে বলটি প্রথমে ব্যাটে লেগেছে নাকি প্যাডে আঘাত করেছে। ফলে টিভি বা তৃতীয় আম্পায়ারের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক বেশি সহজ হবে। প্রাথমিক পরীক্ষামূলক প্রয়োগেও দেখা গেছে যে, এই প্রযুক্তি থার্ড আম্পায়ারকে বেশ কিছু অতিরিক্ত ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম।
কী বলছে প্রস্তুতকারক সংস্থা? ‘ভার্চুয়াল আই’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেন টেলর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমাদের দল দীর্ঘ সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই প্রযুক্তিটি প্রস্তুত করেছে। ক্রিকেটে ডিআরএস প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আরও বহুগুণ বাড়াতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। সফলভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার পরই এটি মাঠে নামানো হচ্ছে।”
আপাতত শুধুমাত্র ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সীমিত ওভারের বা টেস্ট সিরিজেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতায় এই প্রযুক্তি স্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে হলে আইসিসি-র আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
