দাউদ ইব্রাহিম ও ডি-কোম্পানির সঙ্গে ভারতের কোনো যোগ নেই, কুখ্যাত গ্যাংস্টার পাকিস্তানেই রয়েছে: রাষ্ট্রপুঞ্জে স্পষ্ট জানাল ভারত

দাউদ ইব্রাহিম ও ডি-কোম্পানির সঙ্গে ভারতের কোনো যোগ নেই, কুখ্যাত গ্যাংস্টার পাকিস্তানেই রয়েছে: রাষ্ট্রপুঞ্জে স্পষ্ট জানাল ভারত

গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিম এবং তার কুখ্যাত অপরাধ চক্র ‘ডি-কোম্পানি’র সঙ্গে ভারতের কোনো যোগ নেই। বরং সে বর্তমানে পাকিস্তানেই অবস্থান করছে—রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদ-প্রতিরোধী ও মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদন সংশোধন করে এমনটাই জোরালোভাবে দাবি জানাল ভারত।

রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদনে ভারতের আপত্তি গত জুলাই মাসে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বেন সাওল রাষ্ট্রপুঞ্জে যে প্রতিবেদন পেশ করেছিলেন, তাতে দাউদের ডি-কোম্পানির ঘাঁটি হিসেবে ভুলবশত ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী রিপোর্টের ওই অংশের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, রিপোর্টের ওই অংশে গুরুতর তথ্যগত বিচ্যুতি রয়েছে এবং এর দায় ভারতের ওপর চাপানো চলে না। দাউদকে যে ভারত হন্যে হয়ে খুঁজছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিজস্ব তালিকাই বলছে দাউদ পাকিস্তানে লুকিয়ে রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, ডি-কোম্পানির প্রধান দাউদ ইব্রাহিমকে ২০০৩ সালেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদ। এছাড়া ১৯৯৩ সালের একটি বড়ো সন্ত্রাসবাদী হামলার তদন্তের সূত্রেও বহু আগে থেকেই তাকে খুঁজছে ভারতীয় পুলিশ। নিরাপত্তা পরিষদের নোটেও এই তথ্য স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত রয়েছে। নথিতে এই ঐতিহাসিক ও আইনগত সত্যের উল্লেখ না থাকাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে অভিহিত করে নয়া দিল্লি।

পাকিস্তানের নাম না করে ওসামার প্রসঙ্গ প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই ভারতের প্রতিনিধি অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, “দাউদ সেই দেশেই রয়েছে, যেখানে ওসামা বিন লাদেনকে পাওয়া গিয়েছিল।” উল্লেখ্য, আমেরিকার ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেনকে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে খুঁজে বের করে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিকেশ করেছিল।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপুঞ্জ সরাসরি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে না। মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তথ্যানুসন্ধান করে রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে তাদের এই রিপোর্ট জমা দিয়ে থাকেন। তবে সেই প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্যগত ভুল ও বিচ্যুতি থাকায় ভারতের আপত্তির মুখে তা সংশোধন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.