বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে ২৭৫টি ভোট পাব, দাবি শুভেন্দুর, বিরোধী শিবিরের ৬৪ বিধায়ককে নিয়ে জল্পনা

বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে ২৭৫টি ভোট পাব, দাবি শুভেন্দুর, বিরোধী শিবিরের ৬৪ বিধায়ককে নিয়ে জল্পনা

বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর পক্ষে সমর্থন জানাবেন বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার, দশমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত দিলীপ ঘোষ ও দিপালী ঘোষের বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

চোরবাগানকাণ্ড নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিরূপ প্রচারের মোকাবিলা সরকার কী ভাবে করবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া অপপ্রচার করতেই পারে। সজল ঘোষ কি জিতেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে? না কি সন্ধ্যায় ৭টার টকশো’র দৌলতে? আমি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছি টকশো’র দৌলতে? যারা ওই টকশো’তে বসেন, তাঁরা জ্ঞানী, পণ্ডিত, অধ্যাপক। তিনি তো বলেছিলেন, বিজেপি দেড়শো আসনে লড়ছে। বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। কাল বিধানসভার ফ্লোর টেস্ট করান, আমি ২৭৫টি ভোট পাব। ওঁদের মধ্যে ৬৪ জন তো আমার পক্ষে হাত তোলার জন্য বসে আছেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে নিশানা করেই ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করেছেন? এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বিধায়ক। তাঁর দল ২০৯ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়েছে। আর আমরা প্রধান বিরোধী দল। ৬৪-৬৫ জন বিধায়ক নিয়ে আমরা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমাদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে ছিলাম। এখনও বিজেপির বিরুদ্ধেই রয়েছি। বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলেই তা বোঝা যাবে। তাই তিনি কেন বা কোন ৬৪ জন বিধায়কের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা মুখ্যমন্ত্রীই বলতে পারবেন।”

অন্য দিকে, শুভেন্দুর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ঋতব্রত শিবিরকে আক্রমণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। দলের রাজ্য মহিলা সংগঠনের নেত্রী তথা কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া বিধায়কদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আলিফা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য এবং তিনি যে বিধায়কসংখ্যার কথা বলেছেন, তা দেখে আমাদের মনে হচ্ছে, তিনি তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বেরিয়ে যাওয়া বিধায়কদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। আর মমতাদির ছবি ও প্রতীক নিয়ে জিতে যে ভাবে ওই বিধায়কেরা পুলিশের ভয় কিংবা জেলযাত্রা থেকে বাঁচতে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা রাজ্যের মানুষ বুঝেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আসলে বিজেপি এ রাজ্যে কোনও বিরোধী দল রাখতে চায় না। সারা ভারতেই বিজেপির এই রাজনীতি চলছে। বাংলাতেও তা শুরু হয়েছে। তাই মনে রাখবেন, যাঁরা অকৃতজ্ঞের মতো দিদির আস্থার মর্যাদা দেননি, তাঁদের এ ভাবেই অসম্মানিত হতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.