বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো আবেগ ও স্মৃতি। গ্রাম বা মফস্বল থেকে অসংখ্য মানুষ পুজো এলেই ছুটে আসেন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমা দর্শন করতে। এই উৎসবের মরসুমে দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু বিখ্যাত পুজোর হদিশ নিয়ে রইল এই বিশেষ প্রতিবেদন, যেগুলি খুব সহজেই ঘুরে দেখা সম্ভব কালীঘাট মেট্রো স্টেশনকে কেন্দ্র করে।
বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ধরে সামান্য পথ হাঁটলেই পড়বে চেতলা সেন্ট্রাল রোড। এই রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলেই বাঁ দিকে পড়বে নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট। সেখান থেকে মাত্র ২০০ মিটার পথ পেরোলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘের পুজো মণ্ডপে। এবছর ৮৮ বছরে পদার্পণ করেছে এই ঐতিহ্যশালী পুজো।
৬৬ পল্লি বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘের মণ্ডপ ঘুরে সেখান থেকে আরও ২০০ মিটার হাঁটলেই দেখা মিলবে ৬৬ পল্লির পুজো। পুজোর সময় এই চত্বরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, তাই বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। সেক্ষেত্রে ভরসা করতে পারেন অ্যাপ ক্যাব কিংবা পায়ে হাঁটা পথ। কালীঘাট মেট্রো স্টেশনের রাসবিহারী অ্যাভিনিউ গেট দিয়ে বেরিয়ে হেঁটে পৌঁছতে সময় লাগবে বড় জোর পাঁচ থেকে দশ মিনিট।
দেশপ্রিয় পার্ক কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে গড়িয়াহাটমুখী অটোতে চড়ে সোজা নেমে পড়া যাবে দেশপ্রিয় পার্ক স্টপেজে। শহরের অন্যতম মেগা ও জনপ্রিয় পুজো হিসেবে পরিচিত এটি। প্রতিবারই নান্দনিক থিম ও রাজকীয় মণ্ডপসজ্জার জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় টানে এই পুজো।
ত্রিধারা সম্মিলনী দেশপ্রিয় পার্ক মণ্ডপ থেকে খুব সহজেই হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় ত্রিধারা সম্মিলনীর মণ্ডপে। পায়ে হেঁটে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে বড়জোর তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগে। তবে পুজোয় এখানে উপচে পড়া ভিড় ও দীর্ঘ লাইন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়াই শ্রেয়।
বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ত্রিধারার মণ্ডপ অর্থাৎ মনোহরপুকুর রোড ও রাসবিহারী অ্যাভিনিউ মোড় থেকে সোজা চলে আসুন রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের দিকে। রাসবিহারী ক্রসিংয়ের ঠিক পাশেই রয়েছে লেক ভিউ রোড। ওই রাস্তা ধরে দক্ষিণ দিকে একটু হাঁটলেই চোখে পড়বে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের মণ্ডপ। ত্রিধারা থেকে হাঁটাপথেই এই মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া যায়।
দর্শনার্থীদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ: পুজোর কদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড এবং একমুখী পথনির্দেশের (ওয়ান ওয়ে) কারণে অনেক সময়ই নির্দিষ্ট গন্তব্যের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তাই সমস্ত দিক মাথায় রেখেই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঘর থেকে বের হন। দক্ষিণ কলকাতার এই মণ্ডপগুলি একে অপরের কাছাকাছি হওয়ায় একদিনেই পায়ে হেঁটে ঘুরে ফেলা সম্ভব। তবে সঙ্গে শিশু বা বয়স্ক কোনো সদস্য থাকলে দীর্ঘ পথ হাঁটার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া মণ্ডপের কাছাকাছি গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা সাধারণত থাকে না, গাড়ি রাখতে হয় বেশ কিছুটা দূরে— এই বিষয়টিও আগে থেকেই মাথায় রাখা দরকার।

