রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ সরকারি চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে সফল ‘আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি’র মাধ্যমে নয়া নজির গড়লেন চিকিৎসকেরা। কোনো বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সফলভাবে জোড়া লাগানো হয়েছে এক প্রৌঢ়ার ছেঁড়া লিগামেন্ট। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সি খায়রুন্নেসা গাজি গত চার মাস ধরে ডান পায়ের গোড়ালির তীব্র সমস্যায় ভুগছিলেন। বাড়িতে পা পিছলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে তাঁর হাঁটতে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতে চরম কষ্ট হচ্ছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বর পরিজনেরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য এসএসকেএমের অর্থোপেডিক বিভাগে নিয়ে আসেন।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে, প্রৌঢ়ার ডান পায়ের গোড়ালির লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের একটি হাড়ের সঙ্গে অন্য হাড়কে যুক্ত রাখতে লিগামেন্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিপূর্বে এই ধরনের চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত স্থানে প্রায় চার ইঞ্চি পর্যন্ত কেটে অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হতো। তবে এবার আধুনিকতম প্রথা প্রয়োগ করে চিকিৎসকেরা সফল হন।
অর্থোপেডিক বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক মুকুল ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক দিব্যেন্দু বিশ্বাস, সুপ্রিয় সরকার ও দেবজ্যোতি সরকার। অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন পারভিন বানু, শুভ্রকান্তি সেনগুপ্ত, দেবাশিস মল্লিক এবং সুকান্ত ভৌমিক।
অর্থোপেডিক সার্জন সুপ্রিয় সরকার জানান, এসএসকেএমে এই প্রথম বড় মাপের কাটাছেঁড়া এড়িয়ে গোড়ালির ‘আর্থ্রোস্কোপিক রিকনস্ট্রাকশন’ সফলভাবে সম্পন্ন হলো। এই পদ্ধতিতে গোড়ালির ভেতরে একটি অতি ক্ষুদ্র ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বেসরকারি কোনো স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অস্ত্রোপচার করতে অন্তত এক লক্ষ টাকা খরচ হতো। সরকারি হাসপাতালে নিখরচায় এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন রোগী খায়রুন্নেসা গাজি।

