ব্রাজিলের কাছে পরাজয় ভারতের: গুরপ্রীতের মারাত্মক ভুলে স্বপ্নভঙ্গ যুবভারতীতে

ব্রাজিলের কাছে পরাজয় ভারতের: গুরপ্রীতের মারাত্মক ভুলে স্বপ্নভঙ্গ যুবভারতীতে

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলে পরাস্ত হলো ভারতীয় ফুটবল দল। তবে স্কোরের ব্যবধান যাই হোক না কেন, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি তৈরি হয়েছিল ভারতীয় গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সংধুর দুটি সহজ ভুলের কারণে। জাতীয় দলের হয়ে ৯০তম ম্যাচ খেলতে নামা এই অভিজ্ঞ গোলকিপারের দায়সারা পারফরম্যান্সে ভেস্তে যায় ভারতের প্রথমার্ধের প্রতিরোধ।

ম্যাচের আগের দিন ব্রাজিলের অধিনায়ক মার্কুইনহোস সংবাদ সম্মেলনে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এই মাইলফলককে কেন্দ্র করে গর্ব প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই একই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিনিয়র গোলকিপার গুরপ্রীত মাঠের পারফরম্যান্সে তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধেই তাঁর দুটি অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ নিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল, যা না হলে অন্তত প্রথমার্ধে গোলশূন্য অবস্থায় সাজঘরে ফিরতে পারত দুই দল।

পর পর ভুলে গুরপ্রীতের খেসারত

ম্যাচের শুরুতেই ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি শট বাঁচিয়ে গুরপ্রীত গ্যালারির করতালি কুড়ালেও, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পারফরম্যান্সে জড়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • প্রথম গোল (২৮ মিনিট): বক্সের ডান দিক থেকে এস্তেভাও একটি শক্তিশালী শট নেন। গোলকিপারের হাতের নাগালে আসা সত্ত্বেও বল গ্রিপ বা সঠিকভাবে ফিস্ট করতে ব্যর্থ হন গুরপ্রীত। তাঁর হাতের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়।
  • দ্বিতীয় গোল (৪২ মিনিট): এস্তেভাওয়ের পাস থেকে পেদ্রোর নেওয়া শট স্রেফ পা বাড়িয়ে রোখার ব্যর্থ চেষ্টা করেন গুরপ্রীত। ডান হাতের গ্লাভসে লেগে বল গোললাইন অতিক্রম করে।
  • তৃতীয় গোলের ঝুঁকি: ৪৪ মিনিটে ভিনিসিয়াসের শট গুরপ্রীতের গায়ে লেগে পোস্টের দিকে গড়ালেও তিনি নিজে নড়াচড়া না করে ডিফেন্ডার আপুইয়াকে বল ক্লিয়ার করার নির্দেশ দেন। আপুইয়া কোনোমতে তা বিপদমুক্ত না করলে বিরতির আগেই ব্যবধান আরও বাড়ত।

অতিতেও পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচে বক্স ছেড়ে অহেতুক এগিয়ে এসে গোল হজম করেছিলেন গুরপ্রীত। বিশাল কাইথের মতো ফর্মে থাকা গোলকিপারকে দলে না রাখা এবং প্রভসুখন গিলকে বসিয়ে রেখে বারবার গুরপ্রীতের ওপর আস্থা রাখা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গুরপ্রীতকে তুলে নিয়ে গিলকে মাঠে নামান কোচ খালিদ জামিল।

আনচেলোত্তির শক্তিশালী দল ও ভারতের সাহসী লড়াই

ভারতের বিরুদ্ধে কোনো হালকা মনোভাব দেখাননি ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। প্রথম একাদশেই তিনি মাঠে নামান ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মার্কুইনহোস, দানিলো ও ডগলাস সান্তোসের মতো তারকাদের।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যোজন যোজন পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত ডিফেন্সে অত্যন্ত সুসংগঠিত থেকে প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলেছে। বিশেষ করে ব্রাজিলের সুপারস্টার ভিনিসিয়াসকে পুরো সময় কড়া মার্কিংয়ে রেখে নজর কাড়েন ভারতের তরুণ ফুটবলার অভিষেক সিংহ। এছাড়া রায়ান উইলিয়ামস, বিজয় ভার্গিজ ও মনবীর সিংদের লড়াই গ্যালারির মন জয় করে নেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াল ব্রাজিল

বিরতির পর আনচেলোত্তি দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। ভিনিসিয়াসকে তুলে নামানো হয় ব্রুনো গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ ও স্যামুয়েল লিনোকে।

  • ৫৮ মিনিট: বিজয়ের কাছ থেকে বল ক্যানসেল করে দূরপাল্লার জোরালো শটে ৩-০ করেন লিনো।
  • ৬৪ ও ৬৭ মিনিট: ভারতের কাছে দুটি দারুণ সুযোগ এসেছিল। রায়ান উইলিয়ামস ব্রাজিলীয় ডিফেন্স চিরে বক্সে ঢুকলেও তাঁর শট আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক মাউরো। পরবর্তীতে মনবীরের ভাসানো বলে চলতি শট নিতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন রায়ান।
  • সংযোজিত সময়: অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে লিনো তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন। বদলি গোলকিপার প্রভসুখন গিলের শরীরের নিচ দিয়ে বল জালে ঢুকলে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তির বিরুদ্ধে এই পরাজয় সত্ত্বেও ভারতের ইতিবাচক ফুটবল পরবর্তী ম্যাচের জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আগামী ৬ অক্টোবর নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.