বহুল প্রতীক্ষিত সেই ফাইনালই সত্যি হতে চলেছে। মহিলাদের ক্রিকেটে না হলেও, এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্টে সোনা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন শ্রেয়স আইয়ারেরা। আগামী শনিবার দ্বিতীয় সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারতীয় দল।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে টুর্নামেন্টের চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ম্যাচও সম্পন্ন করা যায়নি। তবে সেমিফাইনালের দিনে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। নিশিনের উইকেটে স্পিনারদের আধিপত্যের কথা মাথায় রেখে একটিই মাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার জসপ্রীত বুমরাহকে রেখে প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণ। সঙ্গে ছিলেন তিন স্পিনার।
ম্যাচে অভিষেক শর্মার সঙ্গে তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে দিয়ে ওপেন করায় ভারত। তিন নম্বরে নামেন সঞ্জু স্যামসন। তবে অভিষেক (৩ বলে ৭) ও সঞ্জু (৯ বলে ৭) দুজনেই রান পেতে ব্যর্থ হন। উল্টোদিকে ২১ বলে ৩৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বৈভব। নিজের ইনিংসে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা মারলেও অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন তিনি।
পরবর্তীতে স্পিনবান্ধব এই পিচে রান পাননি শ্রেয়স (১৩), অক্ষর প্যাটেল (৮), তিলক বর্মা (২) ও শিবম দুবে (৩)। তবে অন্য প্রান্ত ধরে রেখে অনবদ্য ব্যাটিং করেন ঈশান কিষান। শ্রীলঙ্কান বোলারদের ব্যাকফুটে ঠেলে মাত্র ৪৬ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন তিনি, যাতে ছিল ৪টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কা। ঈশানের ব্যাটে ভর করেই নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান তোলে ভারত।
১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। উইকেটের সাহায্য ছাড়াই নিজের বোলিং জাদু দেখান জসপ্রীত বুমরাহ। প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেটের সাথে মেডেন ওভার নেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই তুলে নেন আরও একটি উইকেট। ফলে মাত্র ৭ বলের মধ্যে কোনো রান না করেই ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
পিচের বড় ফাটল কাজে লাগিয়ে ভারতীয় স্পিনারেরা শ্রীলঙ্কান ব্যাটারদের ওপর চেপে বসেন। নুয়ানিদু ফার্নান্দো ছাড়া কোনো শ্রীলঙ্কান ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯.৫ ওভারে ৪৫ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। অতিরিক্ত হিসেবে ভারত ১১ রান না দিলে শ্রীলঙ্কার লজ্জা আরও বাড়ত। ভারতের হয়ে বুমরাহ, অক্ষর ও অভিষেক শর্মা ২টি করে এবং ওয়াশিংটন সুন্দর ১টি উইকেট নেন। বাকি ৩ জন রান আউট হন।
বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান: দিনের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি ভেজা আউটফিল্ডের কারণে দেরিতে শুরু হওয়ায় ওভার কমিয়ে ১৩ করা হয়। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে, যার মধ্যে তাওহিদ হৃদয় ২৫ বলে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। দলটির পক্ষে হাসান নওয়াজ (২৭) ও আবদুল সামাদ (৩০) কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।

