বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেট দলে অভিষেক ঘটে তরুণ পেসার আকিব নবির। দেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্নপূরণ হলেও বল হাতে অভিষেক ম্যাচটি তাঁর জন্য কার্যত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মুখে পড়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জার নজির গড়েছেন এই বোলার।
ম্যাচে ৮.৫ ওভার (৫৩ বল) বল করে ৮৪ রান খরচ করেন আকিব নবি। তাঁর বোলিংয়ে প্রতিপক্ষ ৯টি চার এবং ১টি ছক্কা হাঁকায়। ইকোনমি রেট ছিল ৯.৫১। ওডিআই ফরম্যাটে ভারতের হয়ে অভিষেকে এটিই এখন পর্যন্ত কোনো বোলারের সর্বাধিক রান দেওয়ার রেকর্ড। এর আগে ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১১ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন কারসন ঘাউড়ি। এছাড়া অন্তত ৩০টি বল করা ভারতীয় বোলারদের মধ্যে খরুচে বোলিংয়ের নিরিখেও নবির এই ইকোনমি রেট সবচেয়ে বাজে হিসেবে রেকর্ড বইয়ে উঠেছে।
তবে কেবল নবি একা নন, গুয়াহাটির এই ম্যাচে সব ভারতীয় বোলারই রান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটার জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ এবং আমির জঙ্গু। ভর করে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ৪০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে তারা। কিন্তু রানের পাহাড় গড়েও জয় মেলেনি ক্যারিবিয়ানদের। অধিনায়ক শুভমন গিলের অনবদ্য দ্বিশতক এবং রোহিত শর্মার দুর্দান্ত শতকের ওপর ভর করে ভারত ৩৯ বল বাকি থাকতেই এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয়।
হাই-স্কোরিং এই ম্যাচ জিতে নিলেও গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। পিচের চরিত্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “ভাবুন, কোনো তরুণ বোলার এই ধরনের পিচে বল করতে নেমেছে। সে দেখল প্রতিপক্ষ ৪০০ রান করল, আর আমরা সেই রান অনায়াসে তাড়া করে জিতে গেলাম। পরিসংখ্যানে বা রেকর্ডের খাতিরে এটা দেখতে ভালো লাগতে পারে। দর্শকেরা এবং সম্প্রচারকারী সংস্থাও এতে বিনোদন পাবে। কিন্তু ক্রিকেটের সত্যিকারের কোনো অনুরাগী এমন পিচ দেখে আনন্দ পাবেন না। এই পিচে বোলারদের অবস্থা দেখে আমার সত্যি খারাপ লাগছে।”

