চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারে উপস্থিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চোখের পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকদের রিপোর্ট পেশ করার পরামর্শ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই অবস্থানের পরই শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হলেন সাংসদ। আগামী ৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের যুক্তিসমূহ
শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, ডিজে সংক্রান্ত মামলায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং ইতিমধ্যেই নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি সংক্রান্ত আবেদনে হাইকোর্ট ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে না।
হাইকোর্টের শুনানি ও রাজ্য সরকারের আপত্তি
গত ২০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ডিজে মামলার শুনানি চলাকালীন অভিষেকের আইনজীবী মক্কেলের বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালতকে জানানো হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মুর্শিদাবাদ থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় অভিষেকের চোখের নীচে গুরুতর চোট লাগে। গত ১০ বছর ধরে তিনি আমেরিকার একটি হাসপাতালে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাচ্ছেন।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে সওয়াল করে বলেন, কেবল এই মামলাটিই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও পূর্ববর্তী নির্দেশ
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন যে, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে বিবেচনা করা হবে। আদালত নির্দেশ দেয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।
বিচারপতি স্পষ্ট জানান, এসএসকেএমের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা যদি পরীক্ষা করে লিখিত মতামত দেন যে উক্ত রোগের চিকিৎসা কলকাতায় সম্ভব নয় এবং বিদেশে যাওয়া অপরিহার্য, তবেই আদালত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি পৃথক আবেদনও করে রেখেছেন। উক্ত মামলায় দ্রুত শুনানির আর্জি আদালত খারিজ করলেও মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

