মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতেই বাজিমাত করল মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে ডার্বি জয়ের পরেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বিজয়ী দলের নতুন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। অন্যদিকে, ম্যাচ হেরেও দলের লড়াইয়ে ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন লাল-হলুদ শিবিরের নতুন দায়িত্ব নেওয়া অভিজ্ঞ কোচ আন্তোনিয়ো হাবাস।
ডার্বি জিতেও অখুশি দিমপেরিস
কলকাতার ফুটবলে প্রথম পা রেখেই ডার্বি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন সবুজ-মেরুন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। তবে ম্যাচের পর দলের ফুটবল নিয়ে নিজের অসন্তোষ স্পষ্ট করেন তিনি।
দিমপেরিসের কথায়, “প্রস্তুতির জন্য আমরা পর্যাপ্ত সময় পাইনি, ফলে কাঙ্ক্ষিত মানের ফুটবল খেলতে পারিনি। প্রথম ৬০ মিনিট দল দাপট দেখালেও পরবর্তী সময়ে ফুটবলাররা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তার ফলেই খেলা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাজনীতি করতে আসিনি, ফুটবলই আমার ধর্ম। সমর্থকদের বিশাল প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সব বিভাগেই আরও উন্নতি করতে হবে।”
স্ত্রীর উদ্দেশ্যে গোল উৎসর্গ সাহালের
ম্যাচের নির্ধারক একমাত্র গোলটি করেন ভারতীয় মিডফিল্ডার সাহাল আব্দুল সামাদ। জয়ের পর এই গোলটি নিজের স্ত্রীকে উৎসর্গ করে সাহাল বলেন, “নতুন কোচ ও একাধিক নতুন ফুটবলার আসায় বোঝাপড়া তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগছে। কোচের বার্তা পরিষ্কার—সব ম্যাচকেই ডার্বির মতো গুরুত্ব দিয়ে খেলতে হবে।”
হারলেও ফুটবলারদের লড়াইয়ে খুশি হাবাস
পূর্বে মোহনবাগানকে সাফল্য এনে দেওয়া আন্তোনিয়ো হাবাস এবার ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্বে। ডার্বিতে হার দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শিষ্যদের পারফরম্যান্সে খুশি লাল-হলুদ কোচ।
হাবাস জানান, “বিদেশি ফুটবলাররা মাত্র একটি অনুশীলন সেশন পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও দ্বিতীয়ার্ধে দল অন্তত ৭-৮টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। গোল করতে না পারাই মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”
সাক্তন ছাত্র তথা মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসার পাশাপাশি রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাবাস। তাঁর মতে, সবুজ-মেরুন অধিনায়ক শুভাশিস বসুকে হলুদ কার্ড নয়, সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল। আগামী সোমবারে দলের পরবর্তী বিদেশি ফুটবলার চলে এলে ইস্টবেঙ্গল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি।

