সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল ফাইনালে প্রবেশ করলেও দলের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা ফের একবার প্রকট হয়ে উঠেছে। শেফালি বর্মা এদিন অসাধারণ ইনিংস না খেললে ভারতের জয় পাওয়া কঠিন হতে পারত।
টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। ম্যাচের প্রথম ওভারেই ওপেনার স্মৃতি মন্ধানাকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে দারুণ সূচনা করেছিলেন মারুফা আখতার। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শেফালি বর্মা দলের ইনিংসের হাল ধরেন। দুবাইয়ের মন্থর পিচে যখন বাকি ব্যাটারেরা রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন শেফালি মাত্র ৪০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬০, যেখানে দলের অন্য চারজন ব্যাটার ১০০-র কম স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন।
অবশ্য ইনিংসের শুরুতেই বেশ কয়েকবার ভাগ্যের সাহায্য পান শেফালি। বাংলাদেশ ফিল্ডারদের ক্যাচ ফেলার খেসারত দিতে হয় দলকে। ব্যক্তিগত ৬, ১১ এবং ৪০ রানের মাথায় তাঁর তিনটি ক্যাচ ফেলেন যথাক্রমে ফাহিমা খাতুন, নাহিদা আখতার ও অন্য এক ফিল্ডার। জীবনদান পাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
পাওয়ার প্লে-তে ভারত ৪৫ রান তুললেও মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি শ্লথ হয়ে যায়। প্রতীকা রওয়াল ২৪ বলে ২০ রান করে আউট হন। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর শুরু দিকে মারাত্মক ধীরগতিতে ব্যাট করেন এবং প্রথম ১৬ বলে মাত্র ৪ রান করেন। পরবর্তীতে দুটি ছক্কা মেরে কিছুটা রান বাড়ালেও তিনি ২৮ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। দীপ্তি শর্মা ৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারত তুলনামূলক মাঝারি রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও ধীরগতিতে ইনিংস শুরু করে। ভারতীয় স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারেরা সেভাবে আক্রমণ করতে পারেননি। ওপেনার দিলারা আখতার (২১), জুরাইয়া ফেরদৌস (১৪), শোভনা মোস্তারি (১৮) এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা (১৯) লড়াই চালালেও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পতনের কারণে রান রেট বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ, যার ফলে ৪০ রানের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারতীয় দল।

