তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। কলকাতার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। শুক্রবার তাঁকে মেদিনীপুরের আদালতে হাজির করানো হতে পারে। তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগেই শীর্ষ আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় রাজ্যের তরফে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চকে রাজ্য জানায়, সুমিতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে এবং শুধু জুন মাসেই জমা হয়েছে ৭১ লক্ষ টাকা। এই বিপুল আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘আমি জানি না’ বা ‘আমি মনে করতে পারছি না’ বলে উত্তর এড়িয়ে যান। রাজ্যের আইনজীবীর আশঙ্কা, এই তথ্য এখনও পর্যন্ত উদ্ঘাটিত তথ্যের কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র।
অন্যদিকে, সুমিতের আইনজীবীরা গোপালশঙ্কর নারায়ণ এবং অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, অভিষেকের আপ্তসহায়ক হওয়ার কারণেই তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১১টি এফআইআর করা হয়েছে। সিআইডি তাঁকে প্রায় ৮৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ব্যাঙ্কে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা জমা করেছেন বলে দাবি করা হয় এবং দলের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার দায় সম্পূর্ণ দলের উপর বর্তায় বলে জানানো হয়। আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তদন্ত চলছে।
উভয় পক্ষের নথি এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিয়োর লিখিত রেকর্ড খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, অভিযুক্তকে পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি। বিচারপতি বাগচী তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, সুমিতের প্যান নম্বর যুক্ত অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা জমা পড়ার বিষয়টি এই তদন্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মামলার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস্’ নামের একটি সংস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। ব্যাঙ্কের নথি যাচাই করে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে যে, সন্দেহজনক লেনদেনগুলি সুমিতের প্যান নম্বরের মাধ্যমেই হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ আসার পরেই বিশাল পুলিশবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছায় সিআইডি। সেই সময় চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বিদেশে ছিলেন। বাড়িতে প্রবেশ করে সিআইডি আধিকারিকেরা সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেন। প্রথমে তাঁকে ভবানী ভবনে এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, শালবনির এই জমি দুর্নীতি মামলায় এর আগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সিআইডির পেশ করা ১৪ পাতার চার্জশিটে সুজয়ের নাম থাকলেও সুমিতের নাম পরবর্তী অতিরিক্ত চার্জশিটে যোগ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

