দুর্গাপুজো মণ্ডপের পাশে মার্কসীয় সাহিত্যের বইয়ের স্টল দিতে হলে নামের ক্ষেত্রে ‘শারদোৎসব’ লেখা চলবে না, ব্যবহার করতে হবে সুনির্দিষ্ট ভাবে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটিই। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বাম দলগুলির উদ্দেশে এমন নিদান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পুজো কেবল সামাজিক উৎসব নয়, এটি হিন্দুদের একটি পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
বিধানসভায় সনাতন ধর্মের অবমাননার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনেকেই দুর্গাপুজো না বলে শারদোৎসব বলেন। আমি সব পুজো কমিটিকে অনুরোধ করব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টেরা স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় দুর্গাপুজো না লিখলে তাদের একটি স্টলও করতে দেবেন না।’’ এমনকি, পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে ‘পুজোসংখ্যা’র পরিবর্তে ‘শারদসংখ্যা’ লেখার প্রবণতা নিয়েও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘উনি হয়তো জানেন না, বাংলায় লক্ষ্য ও উপলক্ষ বলে দুটো শব্দ আছে। দুর্গাপুজো উপলক্ষ মাত্র, যেখানে নানা ক্ষেত্রের মানুষ লক্ষ্য পূরণে নানা শিল্পকলা বা প্রকাশনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ‘শারদোৎসব’ লিখেছিলেন। আজকের মুখ্যমন্ত্রী লেখার বয়ান নিয়ে ফতোয়া দিয়ে বহুত্ববাদী চিন্তাকে ধ্বংস করতে চাইছেন।’’
অন্যদিকে, বিধানসভায় ৩৪ বছরের বাম জমানায় বেআইনি চাকরির প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জবাবে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আগের মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ১৫ বছরে দেড়শবার ফাইল খোলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁরা পারেননি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও সেই একই সুর ধরেছেন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই ভাষা সুষ্ঠু গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।’’

