বন্দে মাতরম বিতর্ক: সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী, নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের

বন্দে মাতরম বিতর্ক: সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী, নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের

স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশন চলাকালীন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সারা দেশে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তীব্র প্রতিক্রিয়া। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজস্থানের চিতৌরগড় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোনিয়া গান্ধীকে নিশানা করার পাশাপাশি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিতর্কের সূত্রপাত: গত শনিবার দিল্লির কংগ্রেস সদর দফতর ইন্দিরা ভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার সময় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে (যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। ভিডিওটিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং দলীয় কর্মীদের গান গাইতে দেখা যায়। অভিযোগ, গান চলাকালীন সোনিয়া গান্ধী কর্মীদের কিছু নির্দেশ দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিজেপির দাবি, পুরো বন্দে মাতরম্ গাওয়া নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবোধকে অপমান করার শামিল।

অমিত শাহের তোপ: রবিবার রাজস্থানের চিতৌরগড়ে আয়োজিত এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “কংগ্রেস সদর দফতরে বন্দে মাতরম্ গাওয়ার সময় সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভাপতিকে গান গাইতে বাধা দিয়েছেন। টিভিতে ১৪০ কোটি ভারতবাসী এই দৃশ্য দেখেছে। সোনিয়া গান্ধী যে পাপ করেছেন, দেশবাসী তা কখনও ক্ষমা করবে না। এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের চিঠি ও শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া: ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য তথা নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সোনিয়া গান্ধীকে এক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “কংগ্রেস কর্মীরা যখন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি বন্দে মাতরম্-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিবেশন করছিলেন, তখন আপনার (সোনিয়া) শারীরিক ভাষায় যে দৃশ্যমান অস্বস্তি ও বারবার থামানোর চেষ্টা প্রকাশ পেয়েছে, তাতে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত।” তিনি সোনিয়া গান্ধীকে আত্মবিশ্লেষণ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আর্জি জানান।

রবিবার বিকেলে নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা চিঠিটি হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বন্দে মাতরম্ বিপ্লবীদের সঞ্জীবনী মন্ত্র ছিল। একে অপমান করা মানে দেশপ্রেম ও সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রকে অপমান করা। বাংলার মাটি থেকে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।” একই সাথে রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কংগ্রেসের সাফাই: বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ শনিবারই খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, বন্দে মাতরম্ সম্পূর্ণ রূপেই পরিবেশন করা হয়েছিল। তিনি সাফাই দিয়ে জানান, অসুস্থ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় সোনিয়া গান্ধী দলীয় কর্মীদের তাঁর জন্য একটি চেয়ার আনার নির্দেশ দিচ্ছিলেন, গান থামানোর জন্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.