শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী এবং মহিলা কর্মীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) বাধ্যতামূলক করার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিষয়টিকে আইনি বাধ্যবাধকতার রূপ দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের আইন মহিলাদের পেশাগত জীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
আদালতের যুক্তি: কেন বাধ্যতামূলক আইন নয়?
বিশ্বের বেশ কিছু দেশ যেমন স্পেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় ঋতুকালীন ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও ভারতের প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের মতে:
- নিয়োগে অনীহা: ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হলে বেসরকারি সংস্থাগুলি মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। এতে মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- পেশাদারিত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা: এই ছুটির আইনি বাধ্যবাধকতা কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নির্ভরযোগ্যতা এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- লিঙ্গবৈষম্যের ঝুঁকি: আদালতের মতে, এই ধরনের আইন মহিলাদের অজান্তেই ‘অক্ষম’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যা চিরাচরিত লিঙ্গবৈষম্যের বিতর্ককে আরও উসকে দেবে।
পিটিশন ও পাল্টা সওয়াল
শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামক এক ব্যক্তি দেশজুড়ে ঋতুকালীন ছুটির সুনির্দিষ্ট নিয়মের দাবিতে এই পিটিশন দাখিল করেছিলেন। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এম. আর. শামশাদ কেরলের কিছু স্কুল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টানেন। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি জানান:
“স্বেচ্ছায় কোনও প্রতিষ্ঠান সুবিধা দেওয়া এক বিষয়, আর আইন চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা। কেরলের প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে এটি করছে। কিন্তু জাতীয় স্তরে আইন হলে তা মহিলাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেবে।”
নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের
আদালত এই মামলার নিষ্পত্তি করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এটি মূলত একটি ‘নীতি নির্ধারণী’ বিষয়। বিচার বিভাগ থেকে এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ জারি করা সম্ভব নয়। আদালত বলেছে:
- কোনও সংস্থা যদি স্বেচ্ছায় এই ছুটি মঞ্জুর করে, তবে তা প্রশংসনীয়।
- এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা কীভাবে মহিলাদের স্বাস্থ্যের অধিকার এবং কর্মসংস্থানের সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে কর্নাটক, কেরল এবং পঞ্জাবের কিছু সংস্থা শর্তসাপেক্ষে এই ছুটির অনুমতি দিলেও জাতীয় স্তরে কোনও অভিন্ন নীতিমালা নেই। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর ঋতুকালীন ছুটির বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

