টিএমসি গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে: নারায়ণগড়ের সভা থেকে হুঁশিয়ারি গিরিরাজ সিং-এর

টিএমসি গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে: নারায়ণগড়ের সভা থেকে হুঁশিয়ারি গিরিরাজ সিং-এর

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনীতির পারদ। শুক্রবার বিকেলে ঝাড়গ্রাম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রবেশ করে বিজেপি-র মেদিনীপুর বিভাগের ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র রথ। সন্ধ্যায় নারায়ণগড়ে রথ পৌঁছলে কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। নারায়ণগড় বাজারের রাইস মিল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ গিরিরাজ সিং-এর

এদিনের সভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না, ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।” পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও তিনি একই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘চিন্তা মাত করো, বঙ্গাল মে টিএমসি কি গুন্ডোকো উলটে লটকা দিয়া জায়েগা…!’

রাজ্যের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে সরব হয়ে তিনি আরও জানান:

  • বেকারত্ব: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণে কোনো সদর্থক ভূমিকা পালন করেননি।
  • আর্থিক সহায়তা: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
  • অনুপ্রবেশ: রাজ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য সরকারের উদাসীনতা ও প্রশ্রয়কে তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

রাজ্যের হাল ফেরাতে সরব শুভেন্দু

জনসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতে ধর্ণায় বসছেন। পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘকালীন আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি বাংলার এক ভয়াবহ চিত্র। বাংলা আজ চাকরি, নারী সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ থেকে মুক্তি চায়।”

একইসঙ্গে তিনি টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা এবং কৃষকদের ধান ও আলুর সঠিক মূল্য পাওয়ার দাবি তোলেন।

শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে কটাক্ষ

চন্দ্রকোনা রোডের প্রয়াগ ফিল্ম সিটিতে প্রস্তাবিত ‘ক্যাপ্টেন টিএমটি বার’ সংস্থার কর্মীদের কাজ হারানো প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওখানে তৃণমূলের লোকেরাই সবাইকে ঢুকিয়েছিল, এখন পরিস্থিতি দেখে তারা বুঝুক। অদূর ভবিষ্যতে শালবনীতেও একই ঘটনা ঘটবে। মুখ্যমন্ত্রী কেবল শ্মশান করতে জানেন, নতুন কিছু গড়ার ক্ষমতা তাঁর নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.